ট্রাম্পের ওপর হত্যাচেষ্টা ও হামলার ইতিহাস
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্ট ডিনার চলাকালে হোটেলের বাইরে হঠাৎ বিকট গুলির শব্দ শোনা যায়। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে দ্রুত সরিয়ে নেয় সিক্রেট সার্ভিস।
হামলার সময় নৈশভোজে উপস্থিত প্রায় ২ হাজার ৬শ' অতিথির অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে টেবিলের নিচে আশ্রয় নেন।
তবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনা এটিই প্রথম নয়, বরং পুরো রাজনৈতিক ক্যারিয়ারজুড়ে একাধিকবার হত্যাচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখোমুখি হয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এমন কয়েকটি ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাটি ঘটে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে, পেনসিলভানিয়ার বাটলার শহরে একটি নির্বাচনী সমাবেশে। বক্তৃতা চলাকালে ২০ বছর বয়সী থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস ‘এআর-স্টাইল ৫৫৬ রাইফেল’ থেকে ট্রাম্পের সমাবেশে গুলি চালান। এ হামলায় একজন সাধারণ নাগরিক নিহত হন এবং ট্রাম্পের কানে আঘাত লাগে। অনেকই তখন এই ঘটনাকে ব্যাখ্যা করেছিলেন ঠিক এইভাবে, 'গুলি কানের পাশ দিয়ে গিয়েছে, প্রাণ জেতে জেতে বেঁচে গেলেন ট্রাম্প'।
ওই ঘটনায়, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হামলাকারী থমাস ক্রুকসকে ঘটনাস্থলেই গুলি করে হত্যা করে।
এর কয়েক মাস পর, সেপ্টেম্বরে, ফ্লোরিডার 'ওয়েস্ট পাম বিচ'-এ ট্রাম্পের গলফ কোর্স সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি হত্যাচেষ্টা নস্যাৎ করা হয়।
নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পকে হত্যার জন্য রায়ান রাউথ নামের এক ব্যক্তি কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি গলফ কোর্সের ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে একটি রাইফেল তাক করেছিলেন, তবে গুলি চালানোর আগেই সিক্রেট সার্ভিসের এক এজেন্ট তাকে শনাক্ত করেন। পরে তাকে ঘটনাস্থলের কাছ থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে আদালত রাউথকে হত্যাচেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
ফেব্রুয়ারি আরও একটি ঘটনা ঘটে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে। অস্টিন টাকার মার্টিন নামে ২১ বছর বয়সী এক ব্যক্তি একটি শটগান নিয়ে রিসোর্টে প্রবেশ করলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন। তবে ওই সময় ট্রাম্প সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
এসব ঘটনার বাইরেও ট্রাম্পকে ঘিরে আরও ষড়যন্ত্র ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার ঘটনা রয়েছে। ২০১৬ সালের জুন। এক ২০ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক লাস ভেগাসে ট্রাম্পের সমাবেশে এক পুলিশ কর্মকর্তার বন্দুক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে তিনি অকপটে স্বীকার করেন, ট্রাম্পকে হত্যা করার উদ্দেশ্য ছিল।
এরপর, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর। নর্থ ডাকোটায় এক ব্যক্তি একটি ফর্কলিফট চুরি করে প্রেসিডেন্টের গাড়িবহরের দিকে চালিয়ে দেন।
মূলত, তার পরিকল্পনা ছিল প্রেসিডেন্টকে বহনকারী কার লিমোজিন উল্টে দেওয়া। এর আগে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে, এক ফরাসি-কানাডীয় দ্বৈত নাগরিক ট্রাম্পকে মারাত্মক বিষ রাইসিনসহ একটি চিঠি পাঠান।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে।
/এওয়াইএ/এআই