যুদ্ধবিরতির পর যেভাবে এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। তবে সংঘাতের স্থায়ী সমাধান নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।
চলতি মাসের শুরুতে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই পক্ষের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো চূড়ান্ত অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এ সপ্তাহে নতুন করে আলোচনা হবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে ভিন্নমত।
যুদ্ধবিরতির পর থেকে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে যা ঘটেছে:
৭ এপ্রিল: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ‘একটি পুরো সভ্যতা আজ রাতেই ধ্বংস হয়ে যাবে’। এমন হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা পরই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
৮ এপ্রিল: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, সংঘাতপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, যা শান্তি প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
১১ এপ্রিল: ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে টানা ২১ ঘণ্টা মুখোমুখি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
১২ এপ্রিল: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স জানান, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় কোনো সমঝোতা হয়নি। ইরানি আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। পরে ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধবিরতি এখনো ভালোভাবেই টিকে আছে।
১৩ এপ্রিল: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করে। একইদিন ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চুক্তি না হলে ইরানের জন্য পরিস্থিতি সুখকর হবে না।
১৭ এপ্রিল: ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা জানালে ট্রাম্প বলেন, চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দর অবরোধ চলবে। জবাবে ইরান জানায়, অবরোধ অব্যাহত থাকলে প্রণালি আবার বন্ধ করা হবে।
১৮ এপ্রিল: যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ তুলে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয় ইরান। ট্রাম্প বলেন, আলোচনা চলছে, তবে ইরান ‘চালাকি’ করেছে। গালিবাফ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, দুই দেশ এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা থেকে অনেক দূরে।
১৯ এপ্রিল: ট্রাম্প জানান, দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে যাবেন। ইরানি সূত্রও প্রতিনিধিদল পাঠানোর কথা জানালেও দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হয়নি।
২০ এপ্রিল: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আপাতত পরবর্তী দফা আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ইরান কোনো সময়সীমা বা আল্টিমেটামে বিশ্বাস করে না।
/এআই