×
Logo

আন্তর্জাতিক

মার্কিন শোধনাগারে ভেনেজুয়েলার তেল; নতুন সমীকরণে বিশ্ব জ্বালানি বাজার

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৬ পিএম

মার্কিন শোধনাগারে ভেনেজুয়েলার তেল; নতুন সমীকরণে বিশ্ব জ্বালানি বাজার

দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা আর কূটনৈতিক টানাপোড়েন ছাপিয়ে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের শোধনাগারে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ সংকটের মুখে বাইডেন প্রশাসনের শিথিল নীতির ফলে এই নতুন বাণিজ্যিক দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হচ্ছে ট্রাম্পের শাসন আমলে। বুধবার (৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য জানায়। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মার্কিন বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরন ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানির অনুমতি পাওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে অবস্থিত শোধনাগারগুলোতে পুনরায় ভেনেজুয়েলার তেল পৌঁছাতে শুরু করেছে। 

মার্কিন কোম্পানি শেভরন বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল ভেনেজুয়েলার তেল আমদানি করছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের মতে, এই আমদানির পরিমাণ খুব শীঘ্রই প্রতিদিন ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

মিনার্ভা গ্লোরিয়া জাহাজটি  ৮২০ ফুট (২৫০ মিটার) দীর্ঘ, নেভি ব্লু ও বারগান্ডি রঙে রাঙানো জাহাজটি ভেনিজুয়েলা থেকে  প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মতো মূল্যবান পণ্য বহন করে আনছে, যা মাত্র ছয় মাস আগেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা অসম্ভব ছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা বর্তমানে তলানিতে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে মাত্র ৮ শতাংশ তেল আমদানি করেছে। গত সপ্তাহে এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় কোনো তেলই আমদানি করে না এবং ভবিষ্যতেও এর প্রয়োজন নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল একটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে প্রাধান্য দিচ্ছে হোয়াইট হাউস। এর ফলে লাতিন আমেরিকার এই দেশটির তলানিতে ঠেকে যাওয়া অর্থনীতিও নতুন করে অক্সিজেন পেতে শুরু করেছে।

তবে মার্কিন শোধনাগারগুলোতে এই তেল প্রক্রিয়াজাত করা নিয়ে বিতর্কও কম নেই। পরিবেশবাদী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, স্বৈরাচারী হিসেবে অভিযুক্ত মাদুরো সরকারের সাথে এই বাণিজ্যিক লেনদেন দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তা সত্ত্বেও, তেলের পাইপলাইনে এই পরিবর্তন বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/এএ

Logo