ঋণের ভারে জর্জরিত যুক্তরাষ্ট্র, বাড়ছে সুদ ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে সামনে বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ছাড়িয়ে গেছে অর্থনীতির আকারকে। প্রতি বছর বিশাল বাজেট ঘাটতি আর লাগামহীন সরকারি ব্যয় তৈরি করেছে ঋণের পাহাড়। রেকর্ড ভেঙে রীতিমতো নতুন এক অনিশ্চয়তার দোরগোড়ায় ওয়াশিংটন।
দেশটির জাতীয় ঋণ এখন প্রায় ৩১ দশমিক ২৭ ট্রিলিয়ন ডলার। জিডিপি প্রায় ৩১ দশমিক ২২ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ ঋণের তুলনায় জিডিপির অনুপাত ১০০ দশমিক ২ শতাংশ। গত অর্থবছরে এই হার ছিল ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
এগুলো কেবল সংখ্যা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক চাপে পড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেখা যায়নি এমন চিত্র। একে অর্থনৈতিক অ্যালার্ম হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি একদিনে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ সমপরিমাণ ঘাটতি নিয়ে চলছে। এরমধ্যে আবার সরকারি ব্যয়ের ক্রমাগত বৃদ্ধিতে দ্রুত বাড়ছে ঋণ। ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিস প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে প্রতি ১ ডলার আয় করতে মার্কিন সরকার ব্যয় করছে ১ দশমিক ৩৩ ডলার। চলতি বছরও বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার।
চলমান এই গতি থামানো না গেলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ১০৬ শতাংশ ঋণের ঐতিহাসিক রেকর্ড ভঙ্গ সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের পূর্বাভাস- ২০৩০ সালের মধ্যে মার্কিন ঋণ-জিডিপি অনুপাত পৌঁছাবে ১০৮ শতাংশে। আর এক দশক পর ১২০ শতাংশ। অর্থাৎ অর্থনীতির তুলনায় বিশাল বড় ঋণের বোঝা বইতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে।
এর প্রভাব কী হবে? অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীর গতি, বিনিয়োগ হ্রাস, সুদের চাপ বৃদ্ধি আর সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির বোঝা। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরণের সংকটে পড়বে মার্কিন অর্থনীতি- শঙ্কা বিশ্লেষকদের।
/এমএইচআর