×
Logo

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

'রাগ করলা'র মতো ডায়ালগ সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয় কেন?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৭:২১ পিএম

'রাগ করলা'র মতো ডায়ালগ সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয় কেন?

ছবি: এআই সম্পাদিত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কখন কোন সংলাপ মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে, তা আগে থেকে বোঝা কঠিন। সম্প্রতি তেমনই এক ভাইরাল ডায়ালগ- 'রাগ করলা?'। এক কথিত কবিরাজের সহজ-সরল ভঙ্গিতে বলা এই দুটি শব্দ এখন ফেসবুক রিলস, টিকটক ভিডিও, মিম এবং দৈনন্দিন আড্ডার অংশ হয়ে উঠেছে।

মূলত একটি ভিডিও ক্লিপ থেকেই ডায়ালগটির জনপ্রিয়তা। সেখানে দেখা যায়, একজন মজার ভঙ্গিতে প্রশ্ন করছেন 'রাগ করলা?'। তার কথা বলার ধরন, মুখের অভিব্যক্তি এবং আঞ্চলিক টান দর্শকদের কাছে আলাদা বিনোদন তৈরি করে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

এরপর শুরু হয় নতুন ট্রেন্ড। তরুণরা নিজেদের ভিডিওতে এই সংলাপ ব্যবহার করতে থাকেন। কেউ বন্ধুদের খোঁচা দিতে, কেউ আবার মজার পরিস্থিতি তৈরি করতে ডায়ালগটি যুক্ত করছেন। এমনকি বিভিন্ন অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতাও এটি ব্যবহার করে নতুন নতুন ভিডিও বানাচ্ছেন। 

বিভিন্ন গবেষণাধর্মী লেখায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে সরলতা ও সহজে মনে রাখার ক্ষমতা। 'রাগ করলা'ও ঠিক সে জায়গাতেই সফল। এতে যেমন হাস্যরস আছে, তেমনি রয়েছে সাধারণ মানুষের পরিচিত কথোপকথনের ছাপ।

কিছুদিন আগে এক তরমুজ বিক্রেতার এক ডায়ালগও ভাইরাল হয়। তরমুজ হাতে  তাকে বলতে শোনা যায় 'ওই কিরে, ওই কিরে, মধু, মধু, রসমালাই'।

এছাড়াও 'আমি শেষ', 'ওই মামা না প্লিজ' 'আহারে জীবন', 'মাথা নষ্ট' 'এত সুখ কই রাখি','সিন ক্রিয়েট কইরো না'র মতো ডায়লগও কোনো এক ঘটনা থেকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়েছে মিম। কেউ কেউ বানিয়েছেন ভিডিও। ফেসবুক পোস্টেও ছড়ায় এসব ডায়ালগ। দেখা যায় অনেকের টি-শার্টেও।

তাই প্রশ্ন জাগে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এসব মিম হয়ে যাওয়ার পেছনের কারণ কী?

আদতে মানুষের কিছু স্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা কাজ করে এর পেছনে। বিষয়টা শুধু হাসির নয় বরং যোগাযোগ, পরিচয় ও আবেগের সঙ্গেও জড়িত।

এই যেমন ছোট, ছন্দময় বা অদ্ভুত উচ্চারণের কিছু বাক্য মানুষের মস্তিষ্ক দ্রুত ধরে ফেলে। যেমন একটু নাটকীয় টোন, মজার মুখভঙ্গি বা অস্বাভাবিক শব্দচয়ন থাকলে সেটি 'ক্যাচি' হয়ে যায়। মানুষ পরে সেটা নকল করতে চায়।

এছাড়া একটি ডায়ালগ যখন ভাইরাল হয়, তখন সেটি বুঝতে পারা মানে অনলাইন ট্রেন্ডের অংশ হওয়া। এতে একধরনের সামাজিক সংযোগ তৈরি হয় যে ওই ব্যক্তিটিও এই ট্রেন্ডের অংশ। 

ভাইরাল হবার মানসিকতা থেকে অনেকে ট্রেন্ডিং টপিকে নাম লেখান

সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নিয়ে কাজ করেন সাংবাদিক আজাদ বেগ। তার মতে, এই ট্রেন্ড মূলত 'পপুলিজম কনসেপ্ট' থেকে। ভাইরাল হবার মানসিকতা থেকে এসব করা। ট্রেন্ডের সাথে যাওয়ার মানসিকতা থেকেও কেউ কেউ এমন ডায়ালগ নিজের সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহার করেন। তবে, ভাইরাল হবার চেষ্টাই মুখ্য। 

এক্ষেত্রে অ্যালগরিদমের ভূমিকাও আছে। ফেসবুক, টিকটক বা ইউটিউবে এমন কনটেন্ট বেশি ছড়ায়, যেগুলোতে মানুষ দ্রুত রিঅ্যাক্ট করে, শেয়ার দেয় বা রিমিক্স বানায়। ফলে একটি ছোট ডায়ালগ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

সোস্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড নিয়ে কাজ করেন সাংবাদিক কামরুল ইসলাম রুবেল। তিনি এ নিয়ে লেখালেখিও করেন। তার ভাষ্য, মিম মানুষকে মানসিক চাপ থেকে অল্প সময়ের বিনোদন দেয়। কঠিন খবর, রাজনৈতিক উত্তেজনা বা ব্যক্তিগত চাপের মধ্যে মানুষ হালকা হাসির কনটেন্টে স্বস্তি খোঁজে। ভাইরাল ডায়ালগ সেই দ্রুত বিনোদনের মাধ্যম হয়ে ওঠে।

/এমএমএইচ

Logo