৩ বারের রানার্স-আপ 'ডার্ক হর্স' নেদারল্যান্ডস, ২০২৬ বিশ্বকাপে কতটা শক্তিশালী ডাচরা?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
২০১০ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপার স্বাদ নেয় স্প্যানিশরা। তবে, ওই হার যেন প্রতিশোধের আগুনের মতো দাউ দাউ করে জ্বলেছে প্রতিটি ডাচ প্লেয়ারদের হৃদয়ে। এক-দুই-তিন নয়, টানা ৪ বছর! গ্রুপ ম্যাচে আবার স্প্যানিশদের প্রতিপক্ষ ডাচরা। খেলার প্রথমার্ধেই স্পেন পেনাল্টি পেয়ে যায়।জাবি আলোনসো স্পট কিক থেকে ভুল করেননি। এরপর ম্যাচের ৪৪ মিনিটে ঘুরে যায় খেলা। হঠাৎ করে ভ্যান গালের শিষ্য রবিন ভ্যান পার্সি উড়ে হেড দিয়ে এমন এক ঐতিহাসিক গোল করেন, যা ওয়ার্ল্ড কাপের ইতিহাসে ওল টাইম বেস্ট গোলগুলোর মধ্যে একটি। আর এই গোল দেওয়ার পরই রবিন পান ' ফ্লাইং ডাচম্যানের ' খেতাব।
১৯৭৪, '৭৮ এবং ২০১০—এই তিন বিশ্বকাপের রানার-আপ ডাচরা। যদি এই তিনটি বিশ্বকাপ যদি ডাচরা পেতো তাহলে গল্প অন্যরকম হতো। একইভাবে ক্রোয়েশিয়া কিংবা হাঙ্গেরির ক্ষেত্রেও একই স্টোরি হতে পারতো। তবে, ইতিহাস শুরু লুজারদের মনে রাখে না।
ডাচরা 'লুজার' হলেও এই দলটি নানা কারণে কুখ্যাত। হলুদ কিংবা লাল কার্ড: দুটোই খুব কমন ফ্যাক্টর, যখন ডাচরা মাঠে নামে। খুবই আগ্রাসী খেলার জন্যও তাদের সুনাম রয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে তাই 'ডার্ক হর্স' ট্যাগ নিয়ে মিশন শুরু করবে ডাচরা। ওয়ার্ল্ড কাপকে সামনে রেখে নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের স্কোয়াড ও প্রস্তুতি নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। টানা আট ম্যাচে অপরাজিত থেকে বাছাইপর্ব শেষ করলেও এবারও শিরোপা জয়ের ক্ষেত্রে দলটিকে 'আন্ডারডগ' হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ১৯৮৮ ইউরো জয়ের পর বিশ্বমঞ্চে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তিও হয়নি।
তবে এবার দলটির শক্তি তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ডিফেন্সে অভিজ্ঞ লিভারপুল স্টার ভার্জিল ভ্যান ডাইক, মিকি ভ্যান ডে ভেন এবং জুরিয়েন টিম্বার আছেন। মিডফিল্ডে রায়ান গ্রাভেনবার্খ ও তিজানি রেইনডার্স দলকে গড়ে তুলছেন, আর আক্রমণে কোডি গাকপো বড় ভরসা হিসেবে আছেন।
ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার তিজানি রেইনডার্সকে দলের ‘হার্টবিট’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এসি মিলানে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ২০২৫ সালে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন তিনি। বল নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ এবং প্রতিপক্ষের অ্যাটাক ভাঙার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে দলে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে জাভি সিমন্সের ইনজুরিকে। এপ্রিলে এসিএল ইনজুরিতে পড়ায় তিনি বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন না। আক্রমণভাগে নিয়মিত নির্ভরতা মেমফিস ডিপাই এখনো পুরোপুরি ফিট নন, যদিও তাকে স্কোয়াডে রাখা হয়েছে।
অভিজ্ঞ কোচ রোনাল্ড কোম্যানের জন্যও এটি একটি বড় পরীক্ষা। এর আগে, তিনি ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমানে তিনি তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গড়ার চেষ্টা করছেন।
'গ্রুপ এফ'-এ নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়া। বিশেষকরে, জাপানকে সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তুলনামূলকভাবে সহজ ম্যাচ হিসেবে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচটি বিবেচিত হচ্ছে।
গ্রুপ পর্বের সূচি অনুযায়ী, ১৪ জুন জাপানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে নেদারল্যান্ডস। ২০ জুন সুইডেন এবং ২৪ জুন তিউনিসিয়ার মুখোমুখি হবে তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিভাবান স্কোয়াড থাকা সত্ত্বেও দলগত সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে নেদারল্যান্ডসের শিরোপা স্বপ্ন আবারও অপূর্ণ থাকতে পারে।
২০২৬ ওয়ার্ল্ড কাপের স্কোয়াডে যেসব প্লেয়াররা জায়গা পেয়েছেন:
গোলকিপার
বার্ট ভারব্রুগেন (ব্রাইটন), রবিন রোফস (সান্ডারল্যান্ড), মার্ক ফ্লেকেন (বায়ার লেভারকুসেন)।
ডিফেন্ডার
জুরিয়েন টিম্বার (আর্সেনাল), মিকি ভ্যান ডে ভেন (টটেনহাম), ভার্জিল ভ্যান ডাইক (লিভারপুল), নাথান আকে (ম্যানচেস্টার সিটি), জোরেল হাটো (চেলসি), ডেনজেল ডামফ্রিস (ইন্টার মিলান), ইয়ান পল ভ্যান হেক (ব্রাইটন)।
মিডফিল্ডার
রায়ান গ্রাভেনবার্খ (লিভারপুল), তিজানি রেইনডার্স (ম্যানচেস্টার সিটি), ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং (বার্সেলোনা), টিন কুপমেইনার্স (জুভেন্টাস), মার্টেন ডি রোন (আতালান্টা), কুইন্টেন টিম্বার (মার্সেই), গুস তিল (পিএসভি আইন্দহোভেন), ম্যাটস উইফার (ব্রাইটন)।
ফরোয়ার্ড
ব্রায়ান ব্রোবি (সান্ডারল্যান্ড), মেমফিস ডিপাই (করিন্থিয়ান্স), কোডি গাকপো (লিভারপুল), জাস্টিন ক্লুইভার্ট (বোর্নমাউথ), নোয়া লাং (গালাতাসারাই), ডোনিয়েল মালেন (রোমা), ক্রাইসেনসিও সামারভিল (ওয়েস্ট হ্যাম), ওউট ওয়েগহর্স্ট (আয়াক্স)।
নেদারল্যান্ডসের এই স্কোয়াডে অভিজ্ঞ তারকা ও তরুণ প্রতিভার সমন্বয় রয়েছে, যা দলটিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।