মোবাইল বা ল্যাপটপের মতো এবার ফুটবলও দিতে হবে চার্জে! শুনতে অবাক লাগলেও আগামী ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠ কাঁপাবে এমনই এক হাই-টেক বল। মানে ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ বল কিক-অফের আগে প্লাগ-ইন করে ফুল চার্জ করে নিতে হবে।
কেবল তা নয়, কাতার বিশ্বকাপের পর এবার আরও উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বমঞ্চে। গোল লাইন বা অফসাইডের বিতর্ক এড়াতে বলের ভেতরেই থাকছে শক্তিশালী সেন্সর ও ব্যাটারি।
শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের 'ট্রাইওন্ডা' নামের বলের খুঁটিনাটি প্রযুক্তি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক—
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সবাই দেখেছে বলের ঠিক মাঝখানে কিছু তারের সাহায্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল একটি চিপ বা সেন্সর। তবে এবার প্রযুক্তিকে করা হয়েছে আরও নিখুঁত। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে সেন্সরটি বলের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকবে না; বরং বলের বাইরের চামড়ার একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের সাথে সরাসরি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে বলের গতি ও ভারসাম্য হবে একদম প্রাকৃতিক।
বলের ভেতরের এই অতি ক্ষুদ্র ও হালকা সেন্সরটি খেলোয়াড়দের স্পর্শের সাথে সাথেই লাইভ ডেটা পাঠাবে ভিএআর রুমে। আর এই কাজকে নিখুঁত করতে স্টেডিয়ামের চারপাশে ও ছাদে ওত পেতে থাকবে ১২টি বিশেষ হক-আই ক্যামেরা। প্রতি সেকেন্ডে ৫০বার বল এবং মাঠের ২২ জন খেলোয়াড়ের শরীরের ২৯টি পয়েন্ট ট্র্যাক করবে এই সিস্টেম। বলের সেন্সর আর ক্যামেরার এই যুগল ডেটা চোখের পলকে নির্ধারণ করবে গোল-লাইন টেকনোলজি এবং সেমি-অটোমেটেড অফসাইডের মতো কঠিন সব সিদ্ধান্ত।
খেলোয়াড়দের জন্য স্বস্তির খবর হলো, সেন্সরটি ওজনে এতটাই হালকা যে, পায়ে এর উপস্থিতি বিন্দুমাত্র টের পাওয়া যাবে না। আর এর ব্যাটারি লাইফ? একবার ফুল চার্জ দিলে এই বল টানা ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত সচল থাকবে। অর্থাৎ নির্ধারিত ৯০ মিনিট পেরিয়ে ম্যাচ যদি অতিরিক্ত সময় কিংবা টাইব্রেকারেও গড়ায় চার্জ ফুরোনোর কোনো শঙ্কা নেই।
প্রযুক্তির এই চরম উৎকর্ষতায় ফুটবল মাঠের ভুল সিদ্ধান্ত কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এখন শুধুই অতীত। নিখুঁত ও গতিময় এক বিশ্বকাপের অপেক্ষায় এখন পুরো ফুটবল বিশ্ব।
/এমএন