×
Logo

বিনোদন

আশা ভোঁসলের প্রয়াণ

একটা দেশলাই কাঠির আলো জ্বালিয়ে হয়ে উঠলেন নক্ষত্র

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম

একটা দেশলাই কাঠির আলো জ্বালিয়ে হয়ে উঠলেন নক্ষত্র

একটা দেশলাই কাঠি জ্বালাও, তাতে আগুন পাবে; শীতের কাছ থেকে দূরে পালাও, তাতে ফাগুন পাবে; তবু আমাকে আর পাবে না, বুঝলে? আমাকে আর পাবে না।

আশা ভোঁসলের এই গানে তাকে না পাওয়ার কথা থাকলেও ভারতীয় সংগীত তাকে ঠিকই খুঁজে নিয়েছে ইতিহাসের পাতায়। তার সৃষ্টি সংগীতের ইতিহাসে তাকে করে দিয়েছে এক অমর নক্ষত্র। ২০টিরও বেশি ভাষায় ১২ হাজারের বেশি গান গেয়ে করেছেন 'গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড।'  

আশার জন্ম ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। বাবা বিখ্যাত সংগীতশিল্পী পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর। আর তার বোন আরেক কিংবদন্তি লতা মঙ্গেশকর। কিংবদন্তি পরিবারে জন্ম হলেও শুরুটা কষ্টের ছিল আশার। মাত্র ৯ বছরে বাবাকে হারিয়ে বোন লতার সাথে পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব নিতে হয় তাকে। 

মাত্র ১০ বছর বয়সে মারাঠি সিনেমা 'মাজা বল'- এ গান গেয়ে প্লেব্যাক জগতে আসেন আশা। ১৯৪৮ সালে 'চুনারিয়া' চলচ্চিত্রে গান গেয়ে হয় বলিউডে অভিষেক। ১৯৪৯-এ 'রাত কি রানি' নামের ছবিতে এককভাবে গাওয়ার সুযোগ আসে। ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন গণপতরাও ভোঁসলেকে। যেটি স্থায়ী হয়েছিল ১৯৬০ সাল পর্যন্ত। 

পঞ্চাশের দশকে বলিউডে তার প্রতিযোগী ছিলেন শামসেদ বেগম, গীতা দত্ত এবং তারই বোন লতা মঙ্গেশকর। প্রথমে ছোট চলচ্চিত্রগুলোতে গান গাইলেও তার বৈচিত্রময় কণ্ঠ তাকে দ্রুতই জনপ্রিয় করে তোলে। ১৯৫২ সালে 'সঙ্গদিল' সিনেমার 'ছম ছমাছম' গান সুপার হিট হওয়ার পর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বলিউডের প্লেব্যাক মিউজিশিয়ানদের তালিকায় গীতা দত্ত বা লতা মঙ্গেশকরের সাথেই উচ্চারিত হয় তার নাম। 

ক্যারিয়ারে গানের জুটি বেঁধেছেন বড় বড় নক্ষত্রের সাথে। মোহাম্মদ রফির সাথে ষাটের দশকে আশার রসায়ন ছিলো অনবদ্য। এছাড়া কিশোর কুমারের সাথে গাওয়া ডুয়েট গুলোতে পুরো ভারতবর্ষ বুঁদ হয়ে থাকতো।

সুরের জগতের আরেক কারিগর রাহুল দেব বর্মন-এর সাথে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন ১৯৮০ সালে। 

অর্কেস্টার যুগ শেষ করে আধুনিক যুগের গানও গেয়েছেন অনবদ্য সুরে। এআর রহমানের সুরে গেয়েছেন 'লাগান' সিনেমার "রাধা ক্যায়সে না জালে', 'পেয়ার তুনে কেয়া কিয়া'-তে গেয়েছেন 'কমবখত ইশক'।   

বর্ণিল জীবনে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন এই কিংবদন্তি। ২০০০ সালে পেয়েছেন ভারতের চলচ্চিত্র জগতের সর্বোচ্চ পুরস্কার 'দাদা সাহেব ফালকে'। ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার 'পদ্মবিভূষণ' পেয়েছেন ২০০৮ সালে। এছাড়া ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে 'বঙ্গবিভূষণ' সম্মান প্রদান করে। 

১২ এপ্রিল, ২০২৬ বিদায় নিলেন এই কিংবদন্তি। সুরের মোহতে আটকে রেখে গেলেন কোটি শ্রোতার মন। তার অমর সৃষ্টি গুলোতেই তিনি বেচে থাকবেন মানুষের মাঝে। তার অনুপস্থিতেও মানুষ অজান্তেই গেয়ে উঠবে 'দম মারো দম', 'কিনে দে রেশমি চুড়ি', 'সহে না যাতনা'-সহ আরও অনবদ্য গান। তার এই সৃষ্টিই তাকে সংগীত জগতের নক্ষত্র হিসেবেই মনে রাখবে চিরকাল। 

/এনএ 

Logo