বাপার প্রশিক্ষণ শেষে কাজ পেলেন ২০ হাজার ৮শ' ৫ জন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
অ্যাসেট প্রকল্পের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কার্যক্রমে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন অংশগ্রহণকারীরা।
বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) পরিচালিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশিক্ষণ শেষ করা ২০ হাজার ৮০৫ জনের কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। তবে প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থানের তথ্য সংগ্রহ-যাচাই এখনও চলমান থাকায় এ সংখ্যাকে চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করছে না বাপা।
বাপার তথ্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থানের মধ্যে প্রাণ গ্রুপের বিভিন্ন শিল্পপার্ক ও প্রতিষ্ঠানে ৭ হাজারের বেশি, টি. কে. গ্রুপে ১ হাজার ১০৪ জন, বনফুল ও কিষোয়ান গ্রুপে ৯১২ জন, আকিজ গ্রুপে ৫৫৬ জন, মেঘনা গ্রুপে ৪০৮ জন এবং হাশেম ফুডসে ২৮৮ জন যুক্ত হয়েছেন।
অন্য প্রশিক্ষণার্থীরা বাপার আওতাধীন বিভিন্ন কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন।
এছাড়াও চাকরির পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও অন্যান্য আয়মূলক কাজকেও এই ফলাফলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাপা বলেছে, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ জোরদার, দক্ষ প্রশিক্ষণার্থীর চাকরিতে নিয়োগ বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা কার্যক্রমে উৎসাহ এবং কর্মসংস্থানের তথ্য নিয়মিত যাচাই করা হবে।
চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত, বাপার আওতায়, ১ হাজার ৯শ' ১৯টি ব্যাচে, মোট ৪৬ হাজার ৫৬ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে ২৬ হাজার ৯৬ জন নারী এবং ১৯ হাজার ৯শ' ৬০ জন পুরুষ।
এছাড়া নারী অংশগ্রহণকারীর হার ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এ ছাড়া প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে ৫৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও ৫৫৮ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য রয়েছেন।
এ পর্যন্ত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) অধীনে ৩০ হাজার ৮৬০ জন দক্ষতা মূল্যায়নে অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ৮৬৫ জনকে দক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। দক্ষতার হার ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
তবে ৪৬ হাজার ৫৬ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীর সবার দক্ষতা মূল্যায়ন এখনও শেষ হয়নি। একইভাবে দক্ষ হিসেবে বিবেচিত সবার কর্মসংস্থান বা আত্মকর্মসংস্থানের তথ্যও এখনও রেকর্ড হয়নি। ফলে কর্মসংস্থানের সংখ্যা পরবর্তীতে আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
বাপার তথ্য অনুযায়ী, তাদের এই কার্যক্রম অ্যাকসেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন (অ্যাসেট) প্রকল্পের প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রশিক্ষণের অংশ। কারিগরি ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি (টিএসটিপি) এবং শিক্ষানবিশ দ্বৈত-পদ্ধতি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির (এডিটিপি) আওতায় শ্রেণিকক্ষের পাশাপাশি বাস্তব কর্মপরিবেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বেকিং, খাদ্য সংরক্ষণ, মোড়কজাত যন্ত্র পরিচালনা, মান নিয়ন্ত্রণ, বিক্রয় ও খুচরা বিক্রয়ের মতো বিষয়ে এসব প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আকিজ, প্রাণ, হাশেম ফুডস, টি. কে., মেঘনা, ওয়েল ফুডস, রানি ফুড, ফুলকলি, বনফুল, কিষোয়ান, লালমাই ও দেশবন্ধুসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে।
বাপার সভাপতি মাহবুব আনাম বলেন, 'আমাদের আওতায় ৪৬ হাজারের বেশি প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন এবং মূল্যায়নে অংশ নেওয়াদের ৯৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ দক্ষ হয়েছেন—এটি উৎসাহব্যঞ্জক। তবে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এই দক্ষতাকে বাস্তব কর্মসংস্থান, আত্মকর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে রূপান্তর করা।'
তিনি আরও বলেন, সদস্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সংযোগ শক্তিশালী করে দক্ষদের কাজের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ চলবে বলেও তিনি জানান।
/এআই