×
Logo

জীবনযাপন

এআই আপনার সাময়িক কথাবন্ধু, তবে কি স্থায়ী সঙ্গীও?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম

এআই আপনার সাময়িক কথাবন্ধু, তবে কি স্থায়ী সঙ্গীও?

ছবি: এআই জেনারেটেড

একাকীত্ব এখন বিশ্বজুড়ে বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অনেকের কাছে নতুন ভরসা হয়ে উঠছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই বন্ধুত্ব সাময়িক স্বস্তি দিলেও বাস্তব জীবনের সম্পর্কের বিকল্প হতে পারে না। বরং এতে মানুষ আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

বিষয়টি নিয়ে সিএনএন একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। যেখানে বলা হচ্ছে, ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) একাকীত্বকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করে। একই বছর যুক্তরাষ্ট্র একে জাতীয় মহামারি হিসেবে আখ্যা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় ভোগা মানুষের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ৩২ শতাংশ বেশি।

মূলত সিএনএনের অনুষ্ঠান 'কারা সুইশার ওয়ান্টস টু লাইভ ফরএভার'-এ একাকীত্বের প্রভাব এবং এআই সঙ্গীর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সাংবাদিক কারা সুইশার বাস্তব সম্পর্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি এআই সঙ্গ ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও নেন। তবে শেষ পর্যন্ত বাস্তব মানুষের সংযোগকেই বেশি কার্যকর মনে হয়েছে তার কাছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা সবচেয়ে বেশি একাকীত্বে ভোগেন, তারাই এআই চ্যাটবটের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন। বাস্তব জীবনের সম্পর্কে যারা অপূর্ণতা অনুভব করেন, তারা এআইয়ের সঙ্গে গভীর আবেগীয় সম্পর্ক তৈরি করতে শুরু করেন। অনেকেই মনে করেন, এআই তাদের বুঝতে পারে, ভালোবাসে কিংবা সমর্থন করে।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই কখনো মানুষের মতো আবেগ অনুভব করে না। এটি কেবল মানুষের প্রতিক্রিয়া অনুকরণ করে।

বিশ্লেষকদের মতে,মানুষের প্রকৃত সংযোগ তৈরি হয় সামনাসামনি উপস্থিতিতে। কণ্ঠস্বর, মুখভঙ্গি ও শরীরী ভাষা- এসব সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু এআই চ্যাটবটে এসব অনুপস্থিত। ফলে সম্পর্কের অনুভূতি তৈরি হলেও তা গভীর বা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বাস্তব সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো দুর্বলতা প্রকাশ, মতবিরোধ এবং পারস্পরিক সমন্বয়। কিন্তু এআই সাধারণত ব্যবহারকারীর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে না। এতে মানুষ এমন সম্পর্কে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারে, যেখানে কোনো বিরোধ বা প্রত্যাখ্যান নেই।

বিশ্লেষকন শেরি টার্কল বলেন, মানুষ ধীরে ধীরে এমন এক 'ঘর্ষণহীন সম্পর্ক'র দিকে যাচ্ছে, যা দেখতে বন্ধুত্বের মতো হলেও প্রকৃত সম্পর্ক নয়। এতে মানবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে এআই কিছু ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন সামাজিক দক্ষতা অনুশীলন বা সহায়তার উৎস খুঁজে পেতে এটি সহায়ক হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষের প্রয়োজন বাস্তব সম্পর্ক ও সরাসরি যোগাযোগ।

তাদের পরামর্শ, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, ছোট ছোট সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানো এবং নিয়মিত আড্ডা বা মিলনমেলার মতো অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কারণ বাস্তব মানবিক সম্পর্কই একাকীত্ব কাটানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

/এমএমএইচ

Logo