কেনেডি সেন্টার থেকে ট্রাম্পের নাম সরানোর নির্দেশ আদালতের
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম ওয়াশিংটনের 'জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস' থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন এক মার্কিন বিচারক।
শুক্রবার (২৯ মে) দেওয়া রায়ে বিচারক বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করা যাবে না। একইসঙ্গে, প্রস্তাবিত সংস্কারকাজের জন্য কেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তেও স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির নাম, ভবনের সামনের অংশ, সব ধরনের স্থায়ী বা ডিজিটাল সাইন এবং আনুষ্ঠানিক নথিপত্র থেকে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলতে হবে।
তবে কেনেডি সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ আবার কংগ্রেসের হাতে ফিরিয়ে দিতে তিনি কাজ করবেন।
পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিক ও সাংস্কৃতিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ না পেলে তিনি এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে আগ্রহী নন।
গত বছর, ওয়াশিংটনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পুনর্ব্র্যান্ডিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কেনেডি সেন্টারের নামের সঙ্গে নিজের নাম যুক্ত করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন ট্রাস্টিকে সরিয়ে দিয়ে নিজেই ট্রাস্টি হিসেবে যোগ দেন ট্রাম্প। পরে পর্ষদের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন তিনি। একই বছরের ডিসেম্বরে, পর্ষদ প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং পরদিনই ভবনের সামনে ট্রাম্পের পূর্ণ নামসংবলিত নতুন সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।
নাম পরিবর্তনের পর বেশ কয়েকজন শিল্পী তাদের নির্ধারিত অনুষ্ঠান বাতিল করেন। পাশাপাশি টিকিট বিক্রিও কমে যায়।
এদিকে, ২০২৬ সালের ৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ব্যাপক সংস্কারকাজের জন্য দুই বছরের জন্য কেন্দ্রটি বন্ধ রাখার ঘোষণাও দেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়।
ওহাইও'র ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান এবং বোর্ড সদস্য জয়েস বেটি ও কয়েকজন সাবেক ট্রাস্টি আদালতে মামলা করে অভিযোগ করেন, পরিচালনা পর্ষদের বিষয়ে ভোট দেয়ার অধিকার তাদের কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। পরে তারা কেন্দ্রটি বন্ধের পরিকল্পনার বিরুদ্ধেও আইনি চ্যালেঞ্জ জানান।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জয়েস বেটি বলেন, প্রশাসনের নাম পরিবর্তন ও কেন্দ্র বন্ধের উদ্যোগের কোনো আইনি ভিত্তি নেই, আদালতের রায় সেটিই প্রমাণ করেছে।
তবে কেনেডি সেন্টারের মুখপাত্র রোমা দারাভি বলেন, আপিলের পর আদালত ট্রাম্পের সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতি দেয়ার পর্ষদের সিদ্ধান্ত বহাল রাখবে বলেই তারা আশাবাদী।
/এআই