ঢাকা মেডিকেল কলেজে সফল কিডনি প্রতিস্থাপন, পরিদর্শনে বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে সম্প্রতি সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম।
পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. রফিকুল ইসলাম ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা ‘মৃত’ ব্যক্তির অঙ্গ প্রতিস্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্ট হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে ‘ব্রেন-ডেড’ বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে অঙ্গ সংগ্রহ করে অন্য রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। হার্ট, লিভার, কিডনি, ফুসফুস ও কর্নিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ এভাবে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব।
এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেক অঙ্গ জীবিত দাতার কাছ থেকে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’
দেশে আইনগতভাবে ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের সুযোগ থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ এখনো সীমিত বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে প্রথম ক্যাডাভারিক কিডনি প্রতিস্থাপন বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সেখানে একজন ব্রেন-ডেড রোগীর শরীর থেকে নেওয়া দুটি কিডনি দুজন রোগীর শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল।
তবে এত দিনেও দেশে এটি নিয়মিত বা প্রতিষ্ঠিত প্রোগ্রাম হিসেবে গড়ে ওঠেনি।
দেশে ক্যাডাভারিক ট্রান্সপ্ল্যান্টের অগ্রগতি ধীর হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেন এই ইউরোলজিস্ট। তিনি বলেন, ‘সামাজিক ও ধর্মীয় ভুল ধারণা, সচেতনতার অভাব, হাসপাতালের সীমিত অবকাঠামো, আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা এবং জাতীয় স্তরে কোনো সমন্বিত ব্যবস্থা না থাকার কারণেই এই কার্যক্রম গতি পাচ্ছে না।’
তবে ‘মানব অঙ্গ ও টিস্যু প্রতিস্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ দেশের চিকিৎসা খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডা. রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘নতুন আইনে কঠোর নৈতিক সুরক্ষা বজায় রেখে অঙ্গদানের প্রচলিত বাধাগুলো দূর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
দেশে ‘ইমোশনাল ডোনার’ (আবেগীয় দাতা) এবং ‘জাতীয় সোয়াপ রেজিস্ট্রি’ চালু করা সম্ভব হলে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা পাবে।’
নতুন আইনি কাঠামো ও সফল প্রতিস্থাপনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের অঙ্গ প্রতিস্থাপন কার্যক্রম বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছাবে। এর ফলে শেষ পর্যায়ের অঙ্গ বিকলতায় ভোগা দেশের হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে।
/এমএইচআর