×
Logo

বিনোদন

তালসারি জলে রাহুল, সেন্ট জন’স দ্বীপে জুবিন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম

তালসারি জলে রাহুল, সেন্ট জন’স দ্বীপে জুবিন

আল মাহফুজ ⚫

'সাগরে ডুব দিলে মুক্তো পাওয়া যায়
ভালোবাসায় ডুব দিলে ভিখারি হতে হয়'

২০০৮ সালে মুক্তি পায় 'চিরদিনই তুমি যে আমার' নামে একটি সিনেমা। উল্লিখিত দুটি বাক্যের দেখা মেলে সেই সিনেমায় দেখানো একটি সিএনজি অটোরিকশার পেছনে। পর্দায় তখন নতুন জুটি— রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রিয়াঙ্কা সরকার। সে সময় কৃষ্ণ আর পল্লবীর অন্যধারার প্রেম দেখে যেন মোহগ্রস্ত বাংলার তরুণ-তরুণীরা।

সেই রাহুল আর প্রিয়াঙ্কার রুপালি পর্দার প্রেম গড়ায় বাস্তবের পাটাতনে। ২০১০ সালে গাঁটছড়া বাঁধেন তারা। 'সহজ' নামে তাদের একটি পুত্রসন্তান হয় (পরবর্তীতে রাহুল 'সহজ কথা' নামে একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠান করেন, যেটা বেশ জনপ্রিয়তা পায়)।

সময়ের সাথে মানুষের মমতা যেমন ফিকে হয়, তেমনি রূপকথার গল্পেরও হয় ছন্দপতন। ২০১৭ সাল থেকে আলাদা থাকতে শুরু করেন প্রিয়াঙ্কা-রাহুল। মুখে মুখে রটে যায়, তাদের বিচ্ছেদের খবরও। তখন অনেকের মনে সিনেমার সেই কথাটা– ভালোবাসায় ডুব দিলে কি ভিখারিই হতে হয়?

হয়তো হ্যাঁ, হয়তো না। কিন্তু রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বেলায় সেটা খাটেনি। সহজ কথা ভেবে হোক অথবা অন্য কারণে, ঐকতানের ধ্বজা উড়িয়ে তারা আবারও এক হন। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি জোড়া লাগে এই জুটির সম্পর্কের সুতো। তারা একসঙ্গে থাকা শুরু করেন। কিন্তু বিধিবাম! বছর তিনেকের মধ্যেই প্রিয়াঙ্কা আর সহজকে একা রেখে চলে গেলেন রাহুল। 'চিরদিনই তুমি যে আমার'-এ পল্লবী হারিয়েছিল কৃষ্ণকে, সকল টানাপোড়েন ও আবেগের দোলাচল থেকে ঠিক সেভাবে রাহুল যেন উড়ে গেলেন অসীম শূন্যতায়।

Rahul Arunodoy Banerjee: ছেলে সহজের জন্য এক হয়েছিলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা,  বিচ্ছেদে তীব্র কষ্ট পেয়েছিলেন অভিনেতাপর্দার মতো বাস্তবেও জুটি বেঁধেছিলেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা   

সেই সিনেমায় জুবিন গার্গের কণ্ঠে 'পিয়া রে' গানটি ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা অর্জন করে। অথচ কি অবাক করা কাণ্ড! গানটির নায়ক ও গায়ক, দুজনের শেষ পরিণতি হলো জলে নিমজ্জিত মৃত্যু! হয়তো এটা কাকতালীয়, হয়তো কোনো মহাজাগতিক যোগ।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুরের সেন্ট জন’স দ্বীপ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয় জুবিন গার্গকে। মৃত্যুসনদে উল্লেখ করা হয়, দ্বীপটিতে স্কুবা ডাইভিং (পানির নিচে অক্সিজেন ট্যাংক নিয়ে সাঁতার) করতে গিয়ে ডুবে মারা যান একাধারে গায়ক, সুরকার, গীতিকার জুবিন।

এর কয়েক মাসের মাথায় শুটিং করতে গিয়ে এবার ভারতের দিঘার তালসারি সৈকতের জলে তলিয়ে যান অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনাটি টের পেয়ে ইউনিটের টেকনিশিয়ানরা দ্রুত তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ভাগ্যবিধাতার তাতে মন গলেনি।

বিদায়ের সময়েই নাকি টের পাওয়া যায় বুকের ভেতর বৃষ্টি ঝরার শোক। এমন শোকের ফল্গুধারা ঝরেছিল জুবিন গার্গের প্রয়াণে। আজ আবার শোকের বিউগল বাজছে শ্যামল ভাবসম্পদে। রাহুল ছিলেন আদতে বসন্তের গুপ্তচর, রাহুল ছিলেন জন্মান্তরের শালিক।

রাহুল লেখালেখি করতেন। পাঠকের হৃদয়কে অবলীলায় ছুঁয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সব লেখকের থাকে না, রাহুলের ছিল। 'দেশ' পত্রিকার প্রেমের একশ কবিতা সংখ্যায় 'জবানবন্দি' নামে একটি কবিতা লিখেছিলেন এই জ্বলজ্বলে তারকা। লেখাটি শেষ করছি তার কবিতার দুটি পংক্তি দিয়ে—

'এটাই তো সময় হারানো খেলনার দুঃখে নীরবতা পালনের
পুকুরের পৃষ্ঠা বদলে যুদ্ধক্ষেত্রে একটি পাতা খসে পড়েছিল সময়ের মতো
জন্মান্তরের শালিক বলে গেল, এই যুদ্ধে আজ পর্যন্ত কেউ জেতেনি..

Logo