×
Logo

আন্তর্জাতিক

তবে কি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির দ্বারপ্রান্তে ইরান?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৫ এএম

তবে কি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির দ্বারপ্রান্তে ইরান?

এই মুহূর্তে ইরানের সামরিক সক্ষমতা বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ইস্যু। প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির দ্বারপ্রান্তে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটি? মূলত, চার হাজার কিলোমিটার দূরের দ্বীপ টার্গেট করে চালানো হামলার পর উঠছে এমন প্রশ্ন।

যার সম্ভাব্য রেঞ্জ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। দুরপাল্লার এমন ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের ভাণ্ডারে যুক্ত হয়ে গেলে ঝুঁকিতে পড়তে পারে ইউরোপের বহু মার্কিন ঘাঁটি।

সম্প্রতি, ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। দেশটি থেকে যার অবস্থান আনুমানিক চার হাজার কিলোমিটার দূরে। এরমধ্যে একটি বিধ্বস্ত হয় মিডফ্লাইটে; অপরটি ধ্বংস হয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্টা হামলায়।

সামরিক সূত্রানুযায়ী, এতদূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে হলে দরকার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল, ICBM. যে ক্ষেপণাস্ত্র হাতেগোনা কয়েকটি পরাশক্তির কাছেই রয়েছে। প্রশ্ন হলো ইরান এই প্রযুক্তি থেকে কতদূরে?

তথ্য ঘাঁটলে দেখা যায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের মধ্যে সর্বোচ্চ পাল্লা আড়াই হাজার কিলোমিটারের আশপাশে। অর্থাৎ যা দিয়ে বড়জোড় ইসরায়েল কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ টার্গেট করা যাবে। আবার এটিও সত্য, ICBM বা দুরপাল্লার মিসাইলের কোনো পরীক্ষা প্রকাশ্যে অথবা গোপনে এযাবৎ চালাতে পারেনি তেহরান।

এদিকে, এধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের সফলতা যাচাই করতেও দরকার পড়ে একাধিক টেস্টিংয়ের। নিষেধাজ্ঞা, কঠোর নজরদারিসহ নানাবিধ কারণে আগে কখনও এমন সুযোগ পায়নি ইরান। ধারণা করা হচ্ছে, দিয়েগো গার্সিয়াতে ছোড়া মিসাইল দুটি এই টেস্টিংয়েরই অংশ হতে পারে। আবার মাঝআকাশে পাল্টা হামলায় বিধ্বস্ত হওয়া মিসাইলটি কোনো বাধা না পেলে কতদূর যেতে পারতো তা নিয়েও একটি ধোয়াশা থেকেই যাচ্ছে।

এঘটনা সত্য হলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রচলিত ধারণা আমূল পাল্টে যাবে। অর্থাৎ, এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশে হামলা চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র তেহরান তৈরি করে ফেললে ঝুঁকিতে পড়তে পারে সম্পূর্ণ ইউরোপ, আফ্রিকা এমনকি এশিয়ার বড় অংশও। মিত্র দেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটি চলে আসবে ইরানের মিসাইল রেঞ্জের মধ্যে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি আর পরিচালনা দুটোই অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই নাজুক অর্থনীতি ও শত্রুপক্ষের সার্বক্ষণিক নজরদারির কারণে ইরানের এমন সক্ষমতা থাকলেও তা সীমিত হতে পারে। বর্তমানে তেহরানের সর্বোচ্চ পাল্লার মিসাইলের মধ্যে অন্যতম কদর, এমাদ, খোররামশাহর ও সিজ্জিল।

/এমএইচআর

Logo