১৯৯০ থেকে ২০০০ সালের মাঝের কোনো এক সময়ের কথা। রাজধানীর মোহাম্মদপুর রিং রোডের পশ্চিম দিকের এলাকায় বালু দিয়ে জমি ভরাট করা হচ্ছে। নতুন নতুন আবাসিক ভবন তৈরির ধুম পড়ে গেছে। কনস্ট্রাকশন ও কাঠের কাজের কর্মীদের বেশ চাহিদা তখন। আমার দাঁত তখনও কচি। কাজের সন্ধানে এসে কাঠমিস্তিরির যোগালির কাজ পেয়ে গেলাম। কিছু দিন উৎসাহ তুমুল। তারপর ভাটা। জীবনটাকে স্রেফ বোঝা মনে হয়েছিল তখন।
বোঝা টানার শক্তি বা মোকাবেলার উপায়— যে কারণই বলুন না কেন, আমার কেন জানি মনে হয়েছিল, বইয়ের ভেতরে মূল্যবান সব কথা লেখা থাকে। সেই কথাগুলো হয়তো আমাকে পথ দেখাবে। মহাখালী এলাকার ফুটপাত থেকে কিনেছিলাম 'বাণী চিরন্তনী' নামের একখানা বই। পড়ার নেশা পেয়ে গেল আমাকে। তারপর পড়া ছাড়িনি কখনও, পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন। কেবল পথ নয়, আমি পেয়েছি দেখার অনেকগুলো চোখ, চিন্তার অনেকগুলো জানালা।
অনূদিত এই বইটি সেই পড়ার নেশার ধারাবাহিকতার ফল। ভালো হলো কী মন্দ হলো, তার বিচারের ভার পাঠকের।

অক্তাবিও পাস সম্পর্কে সারস্বত সমাজ ওয়াকিবহাল। পাঠক বা অনুবাদক হিসেবে আমি মনে করি, আগ্রহী পাঠক তো বটেই, এই বইটা বিশ্ব সাহিত্যের তুলনামূলক পাঠে, স্নাতক/স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পাঠ্য হিসেবে মূল্যবান সংযোজন হতে পারে।
সকল শ্রম মূল্য বা স্বীকৃতি দাবি করে। কিন্তু পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বীকৃতি বা মূল্যের সুতোটা বাঁধা থাকে 'বিক্রি', 'বেস্ট সেলিং' কিংবা 'লবিং'য়ের মতো শব্দগুলোর সাথে। অধম এসবের উপযুক্ত নয়।
তবে লেখক-প্রকাশক-পাঠক যেহেতু অভিন্ন সূত্রে বাঁধা, আগ্রহী পাঠকদের প্রতি নিবেদন– বই কিনুন, বই পড়ুন। তাতে করে সবার উপকার হয়। প্রকাশনা শিল্পে পাঠকই মূল। পাঠকের জয় হোক।
বই সম্পর্কিত তথ্য—
বইয়ের নাম: 'পাঁকে ফোটা পদ্ম'
মূল লেখক: অক্তাবিও পাস
অনুবাদক: গৌরাঙ্গ হালদার
প্রচ্ছদ: সব্যসাচী কারিগর
বইয়ের ধরন: সমালোচনা সাহিত্য
প্রকাশক: গ্রন্থিক প্রকাশন
মুদ্রিত মূল্য: ৫০০ টাকা
প্রকাশন স্টল নম্বর: ৯৫২, ৯৫৩, ৯৫৪
/এএম