×
Logo

শিল্প ও সাহিত্য

বইমেলায় ঘুরে ঘুরে যা দেখলাম

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

বইমেলায় ঘুরে ঘুরে যা দেখলাম

সাইফুর রাব্বি 

অমর একুশে বইমেলা বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ বললে কম বলা হয়। বরং এটি আমাদের সংস্কৃতির সামগ্রিকতাকেই ধারণ করে। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও মননে বাঙালিত্ব বোধের যে উদ্দীপন, তার সম্মিলন ঘটে এই বইমেলাতেই।

প্রতি বছর বইমেলা জাতীয় আয়োজন হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসে। ফেব্রুয়ারির যে চেতনা, নিজের মুখের ভাষা রক্ষার্থে যে আত্মত্যাগ, বইমেলা মূলত তারই ধারক।

এ বছর সঙ্গত কারণেই বইমেলায় যাওয়া হয়নি বেশি দিন। একদিন গিয়েছিলাম মেলা প্রাঙ্গণে। গিয়ে দেখি, মেলার প্রত্যাশিত নির্যাসটা কেন জানি অনুপস্থিত। পাঠকের উপচে পড়া ভিড় থেকে লেখকের ব্যাপক সমাগম, কোনোটারই উৎসাহ ব্যাঞ্জক উপস্থিতি নেই।

বইমেলা এবার যেন চিরাচরিত নিয়ম ভেঙেছে। যে মেলা শুরুর প্রচলন ফেব্রুয়ারির ১ তারিখে, এ বছরে সেই মেলা ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছে। যে মেলা সাধারণত চলে সারামাস, নানা কারণে এ বছর যা চলবে ১৮ দিন (১৫ মার্চ পর্যন্ত)।

বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে বর্ণিল আলোকসজ্জা লক্ষ্যণীয় ছিল। বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসও যেন সেজেছে আলোর ঝর্ণাধারায়। বাঙালির ভাষা, গবেষণার প্রাণকেন্দ্র বইমেলাকে কেন্দ্র করে উৎসাহের ফাগুন বার্তা দিচ্ছে।

এবারের মেলায় ছিল না কোনো প্যাভিলিয়ন। প্রকাশনী স্টলের মাধ্যমেই এবার নিজেদের বই বিক্রি করছে। বইয়ের সংগ্রহ ব্যাপক না হলেও পাঠক চাহিদা মেটাতে স্টলে যথাসাধ্য বই রাখতে চেষ্টা করেছেন প্রকাশকরা। মাওলা ব্রাদার্সে কর্মরত সাকিব এ প্রসঙ্গে বলেন, আমরা চেষ্টা করছি পাঠকদের চাহিদা মেটাতে। বই বিক্রি অন্যান্যবারের মতো নেই। পাঠকদের চাহিদাও কম।


বইমেলায় অন্যান্য স্টলের মধ্যে ভিন্ন ভাষাকে পরিচিতি করার প্রয়াসও লক্ষ্যণীয়। বিদেশি ভাষার বই বিক্রির স্টলেরও দেখা মিলেছে মেলায়। এক স্টলে চায়নিজ ভাষায় লেখা শিশু-কিশোরদের জন্য নানা রকম বই বিক্রি করছে চায়না বুক হাইস। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রেতা বলেন, চায়নিজ ভাষাকে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই মূলত বইগুলো বিক্রি হচ্ছে।

বইমেলায় পেশাদার প্রকাশনী ছাড়াও রাজনৈতিক সংগঠনের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। সাংস্কৃতিক বোধের গণ্ডিকে যে রাজনৈতিক বলয় অতিক্রম করতে পারে না, এরই দেখা পেলাম জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন বা গণঅধিকার পরিষদের স্টলসহ বিভিন্ন স্টলে।

জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনার সাংস্কৃতিক স্ফূরণ ঘটাতে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্টলের অংশগ্রহণ লক্ষ্যণীয়। জুলাই আন্দোলন কেন্দ্র করে নানান বই, ছবি ও কথার সমাহার এখানে।

সাম্প্রতিক কালে আলোচিত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির স্মরণে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের স্টলে পাঠক সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। তাকে নিয়ে বিভিন্ন লেখকের বই এখানে বিক্রি হচ্ছে।

মেলায় শিশুদের জন্যও রয়েছে বিনোদনের ব্যবস্থা। মেলা ঘুরতে আসা শিশুরা আনন্দ চিত্তে বিনোদনে মেতে উঠতে পারে তাদের বিনোদন কেন্দ্রে। এছাড়া, ছুটির দিনগুলোতে তাদের জন্য থাকছে 'শিশুপ্রহর'।


মেলায় লেখকদের তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি। এক স্টলে দেখা পাওয়া গেলো লেখক ও কার্টুনিস্ট আহসান হাবিবকে। পাঠকদের অটোগ্রাফ দিচ্ছেন তিনি। ভক্তরাও উৎসাহ নিয়ে ছবি তুলছেন লেখকের সাথে।

বইমেলা প্রতি বছর বাঙালির ঐক্যের বার্তা নিয়ে আসে। যে একতার বাঁধনে বাঙালি জেগেছিল '৫২ তে, জেগেছিল '৭১ এ। বইমেলা যেন স্মরণ করে দিয়ে যায় ‘জগৎ ভ্রমিয়া দেখলাম আমি একই মায়ের পুত’। বাঙালির ঐক্যের বইমেলা হোক সমৃদ্ধ, বারে বারে বাঙালি জাগুক তার আপন পরিচয়ে।

/এএম

Logo