×
Logo

সারাদেশ

টিকটকের মায়াজালে নিখোঁজ: দুই ডিসির তৎপরতায় ঘরে ফিরলো কিশোরী সানজিদা-আতিয়া

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

টিকটকের মায়াজালে নিখোঁজ: দুই ডিসির তৎপরতায় ঘরে ফিরলো কিশোরী সানজিদা-আতিয়া

গাজীপুরের শ্রীপুরের পূর্ব নিজ মাওনা গ্রামের সোহেল রানার চৌদ্দ বছরের মেয়ে সানজিদা আর তেরো বছরের আতিয়া হঠাৎ করেই ভার্চুয়াল দুনিয়ার এক ভয়ঙ্কর প্রলোভনে উধাও হয়ে যায়। এক টিকটকারের কথার ফাঁদে পা দিয়ে, মা-বাবার ওপর অভিমানে গ্রাম ছেড়ে অজানা পথের উদ্দেশে পা বাড়িয়েছিল তারা। পরে তাদের ঠিকানা হয় জামালপুরে।

জাহাঙ্গীর আলম নামের একজন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। তিনি লেখেন— “পথ ভুলে চলে আসা এই মেয়ে দুটিকে আমরা পেয়েছি। তারা দুই বোন। কোনো কারণে তারা কারও মোবাইল নম্বর বলতে পারছে না অথবা মনে করতে পারছে না। মেয়ে দুটি এখন জামালপুর অপরাজেয় বাংলাদেশের শেল্টার হোমে আছে। অনুগ্রহ করে মাওনা, গাজীপুর এলাকার কোনো বন্ধু যদি ঠিকানা খুঁজে দিতে পারতেন, তাহলে মেয়ে দুটি তাদের বাবা-মায়ের কাছে ফেরত যেতে পারত। বন্ধুরা বেশি বেশি শেয়ার করুন।”

পোস্টটি নজরে আসে জামালপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ ইউসুফের। মেয়ে দুইটির প্রকৃত ঠিকানা খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেন।

জামালপুরের ডিসি তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূঁইয়ার সঙ্গে। ঘরের মেয়েদের ঘরে ফেরাতে এরপর শুরু হয় এক যৌথ ও দ্রুতগতির প্রশাসনিক তৎপরতা।

গাজীপুরের ডিসি সার্বিক বিষয়টি জানার পর শিগগিরই শ্রীপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়াকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ইউএনও নাহিদ ভূঁইয়া দ্রুততার সঙ্গে ফরাজিপাড়া ও বিএনপি বাজার সংলগ্ন পূর্ব নিজ মাওনা গ্রামে খোঁজ নিয়ে মেয়ে দুটির নাম-ঠিকানা নিশ্চিত করেন।

সানজিদা ও আতিয়ার হতদরিদ্র বাবা-মাকে ডেকে এনে মেয়েদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। সন্তানদের বেঁচে থাকা এবং নিরাপদে থাকার খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাদের মা-বাবা।

অবশেষে মঙ্গলবার ( ২ জুন) নিখোঁজ হওয়ার ঠিক দুই দিন পর, দুই জেলা প্রশাসকের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সানজিদা ও আতিয়াকে তাদের মা-বাবার কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। জামালপুরের ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ শেল্টার হোম থেকে বিশেষ সুরক্ষায় তাদের গাজীপুরে এনে মা-বাবার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, দুই অভিমানী মেয়ের কোনো ক্ষতি হয়নি। শেল্টার হোমে তারা সম্পূর্ণ নিরাপদ ছিল এবং তাদের বেশি দূর পথ হারাতে হয়নি। তবে এ ধরনের ঘটনা আমাদের বারবার অভিভাবক সচেতনতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।

একইসঙ্গে মেয়ে দুইটির পড়াশোনা যাতে অর্থের অভাবে বন্ধ না হয়, সেজন্য শ্রীপুরের ইউএনও-কে সানজিদা ও আতিয়ার যাবতীয় পড়াশোনার ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

/এসআইএন/এমএইচআর

Logo