×
Logo

সারাদেশ

বাউফল থানায় এন্ট্রি ছাড়া প্রবেশ করে তোপের মুখে সাংবাদিক

বাউফল করেসপনডেন্ট

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

বাউফল থানায় এন্ট্রি ছাড়া প্রবেশ করে তোপের মুখে সাংবাদিক

পটুয়াখালীর বাউফল থানায় নাম এন্ট্রি ছাড়া প্রবেশ করায় দৈনিক গণদাবী পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধির ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। সাংবাদিকের পরিচয় পত্র দেখেও পুলিশের কয়েকজন কনস্টেবল তেড়ে আসেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীর। 

বুধবার (৩ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরে উল্টো সহকর্মীদের সামনেই সংবাদকর্মীকে শাসিয়েছেন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলে অভিযোগ উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিকদের।  

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় পত্র থাকে, পুলিশ পরিচয় পত্র দেখতে পারে। কিন্তু নাম ঠিকানা ফোন নম্বর একটি পাবলিক স্থানে লিখে ঢোকার বিষয়টি নাগরিকদের জন্যও নিরাপদ না। তাছাড়া সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও কেউ ব্যক্তিগত তথ্য দিতে না চাইলে তাকে জোর করার সুযোগ নেই। পাশাপাশি, পুলিশ সবার পরিচয় রাখার কথা বললেও অনেককেই এন্ট্রি ছাড়া প্রবেশ করতে দেখা গেছে বলেও অভিযোগ তাদের। 

ভুক্তভোগী সংবাদকর্মী শুভ চন্দ্র শীল অভিযোগ করেন, বুধবার সকালে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এরমধ্যে নিহতের পরিবারের লোকজন বিচার চাইতে একসাথে অনেকে থানায় ঢুকছিলেন। এসময় মোবাইলে ভিডিও ধারণ করছিলেন তিনি। ডিউটি অফিসারের কক্ষের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আমার ওপর চড়াও হয়। পরে অন্যান্য সাংবাদিকরা পুলিশকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং আমার পরিচয় নিশ্চিত করার পরেও পুলিশ গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করেন। 

এ ঘটনায় বাউফল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিলন বলেন, এধরনের ঘটনা দুঃখজনক। সংবাদকর্মী হোক বা সাধারণ মানুষ, তারা কেউ থানায় ঘুরতে যায় না। অবশ্যই তারা আইনি সুবিধা ও পরামর্শ পেতেই যায়। ডিউটি অফিসার অভিযোগ শোনার পূর্বেই সুবিধাভোগীর পরিচয় জেনে নেয়। তারপরেও আলাদাভাবে তথ্য নেওয়া গ্রহণযোগ্য না। সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিন্মপদস্থ পুলিশ সদস্যদের আচরণ খুবই অসৌজন্যমূলক। 

বাউফল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান হিরন জানান, সম্প্রতি ঠিকাদারি কাজের অনুসন্ধান করায় এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। হুমকির কল রেকর্ড গণমাধ্যমে প্রচারও হয়। পরে তিনি সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়েও সেটা নথিভুক্ত করেনি থানা পুলিশ। ডিউটি অফিসার এসআই মিজান ভুক্তভোগী সাংবাদিককে অপরাধীদের ন্যায় প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেন। পরে উপরস্থ কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পরে দিন সাধারণ ডায়েরি করতে সক্ষম হয় তিনি। এভাবেই চলছে পুলিশের কার্যক্রম। 

বাউফল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, পুলিশ তাদেরকে চিনতে পারেনি, তাই ভুলবোঝাবুঝির কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে সাংবাদিকতো আমাকে ফোন করলেই পারতেন, তিনি বাগ্‌বিতণ্ডায় লিপ্ত হলেন কেনো! তাছাড়া পুলিশ কীভাবে বুঝবে তাকে, সে তো অস্ত্র লুট করতেও আসতে পারে। প্রতিদিন কি পরিমাণ মানুষ থানা থেকে সেবা নিচ্ছে, তা নিশ্চিত তথ্য পেতেই আমরা এন্টি রেজিস্ট্রার চালু করেছি। 

এছাড়া, অন্যান্য থানা তাদের নথির মাধ্যমেই সেবা প্রদানের তথ্য সংগ্রহে রাখে জানালে এড়িয়ে যান ওসি সিরাজুল ইসলাম। 

/এনএ 


Logo