৩০ সেকেন্ডের ক্ষুদ্র অভ্যাসে কমাতে পারে মানসিক চাপ ও ক্লান্তি
অনিক অধিকারী
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২০ এএম
আধুনিক নাগরিক জীবনে কাজের চাপ, মানসিক ক্লান্তি কিংবা দুশ্চিন্তা দূর করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধ্যান বা ব্যয়বহুল রুটিনের আর প্রয়োজন নেই। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে এসেছে, মাত্র ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের ক্ষুদ্র কিছু মানসিক অনুশীলন বা 'মাইক্রোপ্র্যাকটিস' আমাদের মেজাজ ভালো করতে, কাজের ক্লান্তি দূর করতে এবং শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।
নেদারল্যান্ডসের ডেলফট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষক নাতালি ভ্যান ডের ওয়াল এবং ‘মাইক্রোপ্যাকটিস’-এর লেখক এলি সাসম্যানের মতে, প্রতিদিনের কাজের ফাঁকে সামান্য সময়ের কিছু সহজ কৌশল বড় ধরনের মানসিক পরিবর্তন এনে দিতে পারে।
গবেষণায় প্রমাণিত কয়েকটি সহজ মাইক্রোপ্র্যাকটিস নিচে তুলে ধরা হলো:
লাফটার ইয়োগা (হাসির যোগব্যায়াম): কোনো রসিকতা ছাড়াই শুরুতে গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে কৃত্রিমভাবে পেট নাচিয়ে হাসির অভিনয় শুরু করলে অল্প সময়ের মধ্যেই তা বাস্তব হাসিতে রূপ নেয়। নাতালি ভ্যান ডের ওয়ালের এক মেটা-অ্যানালাইসিস অনুযায়ী, সাধারণ কৌতুক শুনে হাসার চেয়ে এই অনভ্যাসের কৃত্রিম হাসি বিষণ্ণতা ও উদ্বেগ কমাতে প্রায় দ্বিগুণ কার্যকর ভূমিকা রাখে।
মাইক্রো ইয়োগা ও স্ট্রেচিং: যারা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের পর্দার সামনে বসে কাজ করেন, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ। পিঠের পেছনে হাত আটকে বুক টানটান করে ২-৩ বার ধীর শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে ঘাড় ও মেরুদণ্ডের টান দ্রুত কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১৫ মিনিট পর পর মাত্র ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের হালকা স্ট্রেচিং কর্মক্ষমতা প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে দেয় এবং মানসিক ক্লান্তি রোধ করে।
ধীর শ্বাস-প্রশ্বাস : ইতালির ইউনিভার্সিটি অব নেপলস ফেডেরিকো ২-এর গবেষক অমিত কুমারের দল দেখিয়েছে, অন্তত ১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে ৩ বার ধীরে শ্বাস টেনে দীর্ঘ সময়ে ছাড়লে শরীরে প্যারা-সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়। এটি মস্তিষ্কে আলফা ও থিটা তরঙ্গ বাড়িয়ে নার্ভাসনেস দূর করে এবং তাৎক্ষণিক মন শান্ত করে।
সেলফ-কম্প্যাশনেট টাচ : এলি সাসম্যানের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বুকের ওপর নিজের হাত আলতোভাবে রেখে গভীর নিঃশ্বাসের সাথে নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল ও সদয় ভাবনা জাগ্রত করলে মাত্র ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে শরীরে ক্ষতিকর স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’-এর নিঃসরণ লক্ষণীয় হারে কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সবকটি অনুশীলন একসঙ্গে করার প্রয়োজন নেই; বরং নিজের ব্যস্ত জীবনযাত্রার সাথে মানানসই যেকোনো এক বা দুটি ক্ষুদ্র অভ্যাস দিনের বিভিন্ন সময়ে ঝালিয়ে নিলেই মিলবে দীর্ঘমেয়াদী সুফল ও কর্মচাঞ্চল্য।
/এএ