হেয়ার রিল্যাক্সারে ক্যানসারের ঝুঁকি গোপনের অভিযোগে ল’রিয়ালের বিরুদ্ধে মামলা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
হেয়ার রিল্যাক্সার বা চুল সোজা করার প্রসাধনীতে ক্যানসারের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য গোপন করার অভিযোগে প্রসাধনী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ল’রিয়াল এসএ এবং এর মার্কিন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্য।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর), অঙ্গরাজ্যের আদালতে, মামলাটি করেন অ্যারিজোনার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস্টিন মেইস। ডেমোক্র্যাট এই অ্যাটর্নি জেনারেলের করা মামলাটি হেয়ার রিল্যাক্সারের সম্ভাব্য ক্যানসার ঝুঁকি নিয়ে কোনো অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে ল’রিয়ালের বিরুদ্ধে করা প্রথম মামলা।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ল’রিয়াল ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করে তাদের হেয়ার রিল্যাক্সার পণ্য বাজারজাত করেছে। এসব পণ্য প্রধানত কৃষ্ণাঙ্গ নারীরা ব্যবহার করেন। তবে পণ্য ব্যবহারের সঙ্গে ডিম্বাশয় ও জরায়ুর ক্যানসারের সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে, এমন কোনো সতর্কতা ভোক্তাদের দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে অ্যারিজোনা কর্তৃপক্ষ।
মামলায় ল’রিয়ালের কাছ থেকে জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যানসারের ঝুঁকি সম্পর্কে ভোক্তাদের সতর্ক 'না' করা পর্যন্ত এসব পণ্য বিক্রি বন্ধে আদালতের নির্দেশও চাওয়া হয়েছে।
অ্যারিজোনার মামলায় আরও বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে নারী ও শিশুদের কাছে এসব পণ্য বাজারজাত করার সময় ল’রিয়াল ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মানুষের ওপর দীর্ঘদিনের সামাজিক চাপ ও বৈষম্যমূলক সৌন্দর্যমানকে কাজে লাগিয়েছে। এক্ষেত্রে ভোক্তাদের নিরাপত্তার চেয়ে মুনাফাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অ্যারিজোনার এই মামলা এমন সময়ে হলো, যখন একই ধরনের অভিযোগে ল’রিয়ালের বিরুদ্ধে ১২ হাজারের বেশি মামলা রয়েছে। এসব মামলা নারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা করেছেন।
মামলাগুলো বর্তমানে শিকাগোর একটি ফেডারেল আদালতে একত্রিত করে পরিচালনা করা হচ্ছে। একাধিক অঙ্গরাজ্যে দায়ের হওয়া একই ধরনের মামলা দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এ ধরনের বহুমাত্রিক মামলা ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।
তবে ল’রিয়াল ইউএসএ-এর এক মুখপাত্র অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি তাদের পণ্যের নিরাপত্তার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী এবং মামলাগুলো আইনগত ও বৈজ্ঞানিক: উভয় দিক থেকেই ভিত্তিহীন বলে মনে করে।
ডার্ক অ্যান্ড লাভলি, অপটিমামসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড নামে এসব হেয়ার রিল্যাক্সার বাজারজাত করা হয়। পণ্যগুলো চুলের স্বাভাবিক গঠন স্থায়ীভাবে সোজা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিক্রি করা হয়।
২০২২ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) একটি গবেষণা প্রকাশের পর এ নিয়ে প্রথম মামলাগুলো সামনে আসে। ওই গবেষণায় বলা হয়, বছরে কয়েকবার হেয়ার রিল্যাক্সার ব্যবহার করা নারীদের জরায়ুর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা এসব পণ্য ব্যবহার না করা নারীদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
তবে ল’রিয়ালের মুখপাত্র শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বলেন, ওই গবেষণায় হেয়ার রিল্যাক্সার ব্যবহারের সঙ্গে বাদীদের অভিযোগ করা কোনো রোগ বা শারীরিক সমস্যার সরাসরি কারণগত সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মামলাগুলোতে আক্রান্ত নারীদের ব্যথা ও ভোগান্তির পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যয় এবং পণ্য কেনার খরচসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
ল’রিয়ালের পাশাপাশি রেভলনসহ অন্যান্য হেয়ার রিল্যাক্সার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকেও এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে। রেভলনও ক্যানসার এবং তাদের পণ্যের ব্যবহারের মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
/এআই