অতিরিক্ত গরম চা-কফি পানে খাদ্যনালীর ক্ষতি ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা
অনিক অধিকারী
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
নিয়মিত মাত্রাতিরিক্ত গরম তাপমাত্রায় চা ও কফির মতো পানীয় পান করলে খাদ্যনালী বা খাদ্যনালীর নলের (ইসোফেগাস) ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ক্যান্সার’-এ প্রকাশিত এ গবেষণায় যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ৯ লাখ ৭৭ হাজার ২৮২ জন মধ্যবয়সী নারী ও পুরুষের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকদের দাবি, গরম পানীয়র সঙ্গে খাদ্যনালীর ক্যান্সারের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র প্রমাণের ক্ষেত্রে এটি এ যাবৎকালের সর্ববৃহৎ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা তুলনামূলকভাবে কুসুম গরম চা বা কফি পান করেন, তাদের তুলনায় যারা ‘অত্যধিক গরম’ পানীয় পান করতে অভ্যস্ত, তাদের খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় তিন গুণ বেশি। বিশেষ করে ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার চেয়ে বেশি তাপমাত্রার যে কোনো পানীয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন ছয় বা তার বেশি কাপ অতি-উত্তপ্ত পানীয় সেবনকারীদের মধ্যেও এই আশঙ্কা বহুগুণ বাড়তে দেখা গেছে।
প্রধান গবেষক ড. কেরেন প্যাপিয়ার জানান, ফুটন্ত কেতলি থেকে কাপে ঢালার পরপরই তরলের তাপমাত্রা থাকে প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই উত্তপ্ত তরল পানের সময় তা গলা দিয়ে নেমে যাওয়ার পথে খাদ্যনালীর সংবেদনশীল অভ্যন্তরীণ কোষের আস্তরণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। দুধ মিশিয়ে তাপমাত্রা কিছুটা নামানো গেলেও তা তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ মাত্রায় পৌঁছায় না। কাপে ঢালার পর পানীয়টি সহনশীল তাপমাত্রায় নামার জন্য কয়েক মিনিট অপেক্ষা করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
তবে চিকিৎসকরা বলছেন, সার্বিকভাবে খাদ্যনালীর স্কোয়ামাস সেল ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার সমাজে তুলনামূলক কম এবং ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনই এই ক্যান্সারের প্রধান কারণ। ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গরম পানীয় পরিহারের পাশাপাশি ধূমপান বর্জনই এই মরণব্যাধি থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
/এএ