×
Logo

স্বাস্থ্য

কয়েক জেলায় শনাক্ত নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি, সতর্ক থাকার আহ্বান

শফিক ছোটন

প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

কয়েক জেলায় শনাক্ত নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি, সতর্ক থাকার আহ্বান

শত বছর ধরে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কৃষ্টপুর গ্রামে, মানুষের সাথে বাদুরের সহবস্থান। গ্রামের ভেতর ছোট-বড় প্রায় সব গাছেই ঝুলে আছে হাজারো বাদুর। এর জেরেই কয়েক জেলায় ভয়ঙ্কর মাত্রায় নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। চিহ্নিত এসব অঞ্চলগুলোয় স্বাস্থ্য বিভাগের বিশেষ সতর্কতা জারি রয়েছে। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে সুরক্ষায়, নাগরিকদের অধিক সচেতন থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। 

২০১৩ সালে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমনে এই গ্রামে ৮ বছর বয়সের এক শিশু প্রাণ হারায়। এরপর যদিও আর কোন ব্যক্তির শরীরে সংক্রমনের তথ্য পাওয়া যায়নি তবুও উৎকণ্ঠায় দিনকাটে অধিবাসীদের।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে- নিপাহ’র প্রধান বাহক বাদুর। খেজুর গাছের কাঁচা রস কিংবা যে কোনও ফলের সাথে এই প্রাণীর লালা, মল-মুত্র মিশে মানবদেহে ভাইরাসের সংক্রমন ঘটে। চাষিরা জাল দিয়ে ঘিরে বাগানের ফল রক্ষা করলেও, অনিরাপদ খেজুরের কাঁচা রস।

রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষনা কেন্দ্র -আইইডিসিআরের তথ্যমতে- নওগাঁ ছাড়াও নিপাহ’র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ জেলার তালিকায় রয়েছে ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও লালমনিারহাট। ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশে ৩৪৭ জন আক্রান্তের তথ্য প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০০৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত শুধু নওগাঁয় ৩৪ জন নিপাহ সংক্রমন এবং ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ভাইরাসের সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি পাওয়া গেছে বদলগাছী, নিয়ামতপুর ও মান্দা উপজেলায়। সংক্রমন ঠেকাতে কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন,কাঁচা খেজুরের রস সংগ্রহের পর সংগ্রহের পর অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। আর কাঁচা খেজুরের রস ১০/১৫ মিনিট ফুটিয়ে খাওয়া নিরাপদ।

নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. আবু জার গাফফার বলেন, ৩ মিটারের কম দূরত্বে সরাসরি সংস্পর্শে এই সংক্রমণ হতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা যারা দেয় তাদের ঝুঁকি আরও বেশি। আক্তান্ত রোগীর চিকিৎসা দেয়ার সময় এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। 

চিকিৎসকরা বলছেন, এই ভাইরাস আক্রান্তের ৫ থেকে ৭ দিন পর লক্ষণ হিসেবে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে জ্বর, গলা ও পেশীব্যাথা, খিঁচুনী, জ্ঞান হারানো এবং স্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

নিপাহ ভাইরাসের কোনো ওষুধ ও টিকা নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বাদুর থেকে নয়; কিম্বা শুধু শীতকালেই নয়; সবসময় এই ভাইরাস ছিড়িয়ে পরতে পারে এবং আক্রান্ত রোগী থেকেও এই রোগ ছড়ায়। তাই সচেতনতা গড়ে তোলার জোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।

/এএস

Logo