‘ডক্টর এক্স’ থেকে ‘আ লাভ আদার দ্যান ইয়োর্স’—আলোচনায় নতুন ৫ কে-ড্রামা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
ছবি- ‘আ লাভ আদার দ্যান ইয়োর্স’ ড্রামার একটি দৃশ্য
গত কয়েক মাসে একের পর এক নতুন কে-ড্রামা দর্শকদের ব্যস্ত রেখেছে। রোমান্স আর প্রতিশোধের গল্পের ভিড়ে প্রিয় সিরিজগুলোর সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে অনেকেরই ঘুমের সময়সূচি এলোমেলো হয়ে গেছে। কখনো দেখা যাচ্ছে, এক রক্ষণশীল মানসিকতার বিপণনকর্মী নিজের সম্পূর্ণ বিপরীত স্বভাবের এক মানুষের প্রেমে পড়ছেন; কখনো ছদ্মবেশে তদন্ত চালাচ্ছেন এক গোয়েন্দা; আবার কোথাও অস্ত্রোপচারে দক্ষ এক চিকিৎসক দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়ছেন। এর পাশাপাশি রয়েছে অন্যের কাছ থেকে শক্তি নিয়ে আক্ষরিক অর্থেই বেঁচে থাকা এক ব্যক্তি এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হওয়া এক জুটি।
মিষ্টি প্রেম আর হাসির গল্প দেখতে চান, নাকি আবেগের গল্পে ডুব দিতে চান? নতুন এই পাঁচটি কে-ড্রামায় পাবেন দুই ধরনের স্বাদই।
১. মেক মি টিঙ্গল
কে-ড্রামায় সিইও বা বড় প্রতিষ্ঠানের মালিকের প্রেমের গল্প নতুন নয়। তবে ‘মেক মি টিঙ্গল’-এর গল্প কিছুটা আলাদা।
নাম জি-হিউন অভিনয় করেছেন গং ইয়ন-সু চরিত্রে। তিনি একটি রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে এবং পেশায় বিপণনকর্মী। সব সময় নিয়ম মেনে চলা ইয়ন-সুর জীবনে পরিবর্তন আসে, যখন তাকে ডকগো ডালের ব্যবসার প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কিম জে-ইয়ং অভিনীত ডকগো ডাল একজন স্বাধীনচেতা সিইও। তিনি নিজের মতো করে জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন এবং অন্যের কথায় সহজে চলেন না।
দুজনের স্বভাব একেবারেই আলাদা। তাই তাদের মধ্যে তৈরি হয় নানা ভুল বোঝাবুঝি ও মজার পরিস্থিতি। ধীরে ধীরে ইয়ন-সু নিজের ভয় কাটিয়ে উঠতে এবং নিজের মতো করে বাঁচতে শেখেন।
নাম জি-হিউনকে এর আগে ‘গুড পার্টনার’ সিরিজে দেখা গেছে। অন্যদিকে, ‘ড. রোমান্টিক’-এর লেখক কাং ইউন-কিয়ংও এই সিরিজের লেখক দলের সঙ্গে যুক্ত। হাসি-আনন্দের পাশাপাশি গল্পে রয়েছে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বার্তা।
২.লাভ ইন ডিসগাইজ: দ্য সেক্রেটারি হ্যাজ আ সিক্রেট
রহস্য আর প্রেম একসঙ্গে দেখতে চাইলে এই সিরিজটি আপনার জন্য।
ইম সি-ওয়ান অভিনয় করেছেন ধনী পরিবারের উত্তরাধিকারী ইউন ই-জুন চরিত্রে। একটি খুনের ঘটনায় তিনি সন্দেহভাজন হয়ে পড়েন। অন্যদিকে, সোল ইন-আহ অভিনয় করেছেন কাং জে-হি চরিত্রে। তিনি সাবেক বিশেষ বাহিনীর একজন গোয়েন্দা।
জে-হি নিজের পরিচয় গোপন করে ই-জুনের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ শুরু করেন। তার উদ্দেশ্য ই-জুনকে নিয়ে তদন্ত করা। কিন্তু একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তার মনে ই-জুনের জন্য ভালোবাসা তৈরি হতে থাকে।
এদিকে, ই-জুন সত্যিই নির্দোষ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, জে-হি নিজের পরিচয় লুকাচ্ছেন, আর ই-জুনও হয়তো নিজের কোনো গোপন কথা আড়াল করছেন। ১২ পর্বের এই সিরিজে প্রেমের পাশাপাশি রয়েছে খুনের রহস্য, সন্দেহ এবং একে অপরের কাছাকাছি থাকার নানা ঘটনা।
৩. ডক্টর এক্স
‘কুইন অব টিয়ার্স’-এ দর্শকদের কাঁদিয়েছিলেন কিম জি-ওন। এবার ‘ডক্টর এক্স’-এ তাকে দেখা যাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে।
কিম জি-ওন অভিনয় করেছেন গ্যে সু-জং চরিত্রে। তিনি একজন দক্ষ সার্জন, যিনি একটি চিকিৎসক সরবরাহকারী সংস্থার মাধ্যমে গুসেও বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে কাজ করতে আসেন।
কিন্তু হাসপাতালটির ভেতরে রয়েছে দুর্নীতিগ্রস্ত চিকিৎসকদের একটি শক্তিশালী চক্র, যাদের বলা হয় ‘হোয়াইট মাফিয়া’। সু-জং রাজনীতি বা ক্ষমতার লড়াইয়ে আগ্রহী নন। তার কাছে রোগীর সঠিক চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সিরিজে জাং হি-সুক চরিত্রে রয়েছেন লি জং-ইউন। তিনি চিকিৎসক সরবরাহকারী সংস্থার অর্থলোভী প্রধান হলেও অত্যন্ত বুদ্ধিমতী। অন্যদিকে, চোই কোয়াং-ইল অভিনয় করেছেন হাসপাতালের চেয়ারম্যানের চরিত্রে।
এই সিরিজে কিম জি-ওনকে আগের তুলনায় অনেক কঠোর ও রহস্যময় চরিত্রে দেখা যাবে। তার সঙ্গে লি জং-ইউনের জুটিও গল্পে হাস্যরস যোগ করেছে।
‘ডক্টর এক্স’ জাপানের জনপ্রিয় একই নামের সিরিজের কোরীয় সংস্করণ। মূল সিরিজটি সাতটি সিজন ধরে চলেছিল। কোরীয় সংস্করণ প্রকাশের আগে সেপ্টেম্বরে নেটফ্লিক্সে মূল সিরিজটিও যুক্ত করা হয়েছিল।
৪. টেক চার্জ অব মাই হার্ট
প্রেমের গল্পে এবার রয়েছে এক অদ্ভুত শর্ত—একজন মানুষের হৃদ্যন্ত্র সচল রাখতে অন্য একজনের কাছাকাছি থাকতে হবে!
কিম ইয়ং-গোয়াং অভিনয় করেছেন বেক হো-রাং চরিত্রে। তিনি একজন ধনী ব্যক্তি, যিনি কৃত্রিম হৃদ্যন্ত্রের সাহায্যে বেঁচে আছেন। অন্যদিকে, চে সু-বিন অভিনীত বো-বে একজন সংগ্রামী চিত্রনাট্যকার, যিনি শিগগিরই ত্রিশে পা দেবেন।
বো-বের শরীর থেকে অস্বাভাবিক পরিমাণে স্থির বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি হয়। আর তার কাছাকাছি থাকলে হো-রাংয়ের হৃদ্যন্ত্রের ব্যাটারি চার্জ হয়। বো-বে ১০ মিটারের মধ্যে থাকলেই এই কাজ সম্ভব।
তাই হো-রাং তাকে একটি বড় অঙ্কের চুক্তির প্রস্তাব দেন। এমনকি নিজের শোবার ঘর থেকে ১০ মিটার দূরে একটি গ্যারেজে তার থাকার ব্যবস্থাও করেন। প্রতিদিন সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে চার্জ নেওয়ার সময়ও ঠিক করা হয়।
দুজনের মধ্যে শুরুতে বনিবনা না হলেও পরিস্থিতির কারণে তাদের একসঙ্গে থাকতে হয়। আর সেখান থেকেই শুরু হয় মজার সব ঘটনা ও প্রেমের গল্প।
যারা হালকা মেজাজের মিষ্টি প্রেমের গল্প পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি ভালো লাগার মতো একটি সিরিজ। তবে পর্যালোচকদের মতে, শেষদিকে গল্পের কিছু বিষয় পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা হয়নি।
৫. আ লাভ আদার দ্যান ইয়োর্স
বেশির ভাগ কে-ড্রামায় প্রথম চুম্বন বা প্রেমের শুরুই গল্পের বড় মুহূর্ত। কিন্তু ‘আ লাভ আদার দ্যান ইয়োর্স’ শুরু হয়েছে প্রেমের সম্পর্কের দশ বছর পরের জীবন নিয়ে।
সো কাং-জুন ও আন ইউন-জিন অভিনয় করেছেন নামগুং হো এবং লি মি-দো চরিত্রে। সাত বছর বয়সে তাদের পরিচয় হয়েছিল। এরপর তারা টানা দশ বছর প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন।
হো একটি মিষ্টি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক। তার কাছে বিয়ে হলো সম্পর্কের স্বাভাবিক পরিণতি। কিন্তু মি-দো একজন চলচ্চিত্র পরিচালক, যিনি পেশাগত জীবনে কঠিন সময় পার করছেন।
ক্যারিয়ারে পিছিয়ে পড়ার কারণে মি-দোর মনে নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। তিনি অনুভব করতে থাকেন, হোর ভালোবাসা তাকে আশ্বস্ত করার বদলে নিজের দুর্বলতাগুলো আরও বেশি মনে করিয়ে দিচ্ছে।
গল্পে রয়েছেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী আইনজীবী চরিত্রে লি জু-আন এবং নিজের অনুভূতি গোপন রাখা এক সহকর্মীর চরিত্রে জো আরাম।
এত বছর একসঙ্গে থাকার পরও হো ও মি-দোর সম্পর্কের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়—তারা কি সত্যিই ভালোবাসার কারণে একসঙ্গে রয়েছেন, নাকি দীর্ঘদিনের অভ্যাস তাদের আটকে রেখেছে?
সিরিজটিতে দশ বছরের সম্পর্কের পর ভালোবাসার অর্থ কী, তা বুঝতে গিয়ে দুজনকেই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
দীর্ঘদিনের সম্পর্ক কীভাবে বদলে যায় এবং জীবনের নানা চাপ কীভাবে ভালোবাসাকে প্রভাবিত করে, সেই গল্পই তুলে ধরেছে ‘আ লাভ আদার দ্যান ইয়োর্স’। যারা বাস্তব জীবনের সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে তৈরি গল্প পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হতে পারে।
তথ্যসূত্র: গালফ নিউজ
/এএন