টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় সুরাটে দুই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার, গ্রেফতার ১০
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনায় তদন্তের অংশ হিসেবে গুজরাটের সুরাট থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সুরাটের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অস্ত্রের সরবরাহপথ অনুসরণ করে সুরাটের একটি গোপন আস্তানার সন্ধান পান তারা। সেখান থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজগুলো উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো ফরেনসিক পরীক্ষা ও ব্যালিস্টিক বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা গুলির খোসার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মিল রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখবেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি অস্ত্র সরবরাহের নেটওয়ার্কে আরও কারা জড়িত, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এর আগে, গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, মোটরসাইকেলে আসা অন্তত দুই ব্যক্তি গাড়িটি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় টাইগার শ্রফ বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পেলেও তার গাড়িচালক ও এক পথচারী আহত হন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা গাড়িটি লক্ষ্য করে পাঁচ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়ে। হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা একটি মোটরসাইকেল পরে মুম্বাইয়ের আন্ধেরি এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টা ও অন্যান্য অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ১০ জনকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে তাদের গ্রেফতারের খবর পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় গ্যাংস্টার অনিল পণ্ডিতকে পলাতক আসামি হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ১৮ অক্টোবরের হামলার দায় স্বীকার করেছিলেন। অনিল পণ্ডিতকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সহযোগী হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। এই গ্যাংটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে ধারণা করা হয়।
এদিকে, পৃথক এক ঘটনায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় বলিউড অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের ‘জলসা’ বাংলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান ক্রনিকল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (বিএমসি) সদর দফতরে মুম্বাইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ের কার্যালয়ে ই-মেইলটি পাঠানো হয়। এতে বিএমসির কয়েকটি কার্যালয়, একাধিক পৌর বিদ্যালয় এবং আগামী ২৭ নভেম্বর মহালক্ষ্মী রেসকোর্সে দিলজিৎ দোসাঞ্জের কনসার্টের আয়োজনস্থলকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
ই-মেইলটির প্রেরক ১৯৮৪ সালের ‘অপারেশন ব্লু স্টার’-এর প্রতিশোধ হিসেবে এসব হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন। বার্তায় ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী সহিংসতার প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ‘খুন দা বদলা খুন’— অর্থাৎ ‘রক্তের বদলা রক্ত’— বাক্যাংশ ব্যবহার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
বার্তাটিতে ৩১ অক্টোবর থেকে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে বিএমসির সদর দফতরে মেয়রের কার্যালয়ের ভেতরে দুপুর ৩টা ১১ মিনিটে বিস্ফোরণ ঘটানোর কথাও উল্লেখ ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ই-মেইলটির প্রাপকদের মধ্যে মুম্বাইয়ের উপমেয়র সঞ্জয় ঘাড়িও ছিলেন। বার্তায় আগামী ৩১ অক্টোবর একটি বিদ্যালয়ে গ্রেনেড হামলা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অমিতাভ বচ্চনের ‘জলসা’ বাংলোতে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
মুম্বাই পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা ই-মেইলটির বিষয়বস্তু যাচাই করছে এবং সেখানে উল্লেখ করা স্থানগুলোর নিরাপত্তাঝুঁকি মূল্যায়ন করছে। তবে, হুমকিতে উল্লেখ করা হামলাগুলো বাস্তবে ঘটেছে— এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
/এনএ