তারকা হওয়ার আগে মাসে আয় ৩৫ রুপি, ৮ কিমি হেঁটে পোস্টার আঁকতেন নানা পাটেকর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম
ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গোয়ার দোনা পাওলায় নিজ বাসভবনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে মৃত্যু হয় তার। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই অভিনেতা তারকাখ্যাতি পাওয়ার বহু আগে পাড়ি দিয়েছেন কঠিন সংগ্রামের পথ। চলচ্চিত্রের ঝলমলে জগতের বাইরে জীবিকার তাগিদে করতে হয়েছে নানা ধরনের কষ্টসাধ্য কাজও।
‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকর জানিয়েছিলেন, বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক সহায়তার জন্য স্কুলে পড়ার সময়ই কাজ শুরু করতে হয়েছিল তাকে। জীবিকার জন্য করা কাজগুলোর মধ্যে ছিল মুম্বাইয়ের চুনাভাট্টি এলাকায় সিনেমার পোস্টার আঁকা। এই কাজ করে মাসে মাত্র ৩৫ রুপি আয় করতেন তিনি। কর্মস্থলে পৌঁছাতে প্রতিদিন প্রায় ৮ কিলোমিটার হেঁটে যেতেন নানা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময় জেব্রা ক্রসিং আঁকার কাজও করেছিলেন তিনি।
ধসে পড়ে পারিবারিক ব্যবসা
১৯৫১ সালে মহারাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া নানার আসল নাম বিশ্বনাথ পাটেকর। তার শৈশব নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসময় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ছিল তার পরিবার। তার বাবা একটি ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
তবে বাবার এক ব্যবসায়িক অংশীদার প্রতারণা করে পারিবারিক ব্যবসাটি নিজের নামে হস্তান্তর করে নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। পরিবারটি পড়ে বড় ধরনের আর্থিক সংকটে। ফলে যে বয়সে অধিকাংশ শিশু স্কুলের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সেই বয়সেই পরিবারের জন্য উপার্জন শুরু করতে হয় নানাকে।
সিনেমার পোস্টার আঁকার কাজটি ছিল তার কর্মজীবনের শুরুর দিকের অন্যতম অভিজ্ঞতা। প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে চুনাভাট্টিতে গিয়ে সিনেমার পোস্টার আঁকতেন তিনি। বিনিময়ে মাসে পেতেন মাত্র ৩৫ রুপি।
তবে জীবিকার এই কঠিন সংগ্রামের মধ্যেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হতে থাকে তার। এক সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকর জানিয়েছিলেন, অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ তৈরিতে বাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বাবাই তাকে নাটকের প্রতি আগ্রহী করে তোলেন এবং থিয়েটারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
থিয়েটার থেকে চলচ্চিত্রের জগতে
একসময় পেশাদার অভিনয়ে প্রবেশ করেন নানা পাটেকর। ১৯৭৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গমন’ ছিল তার প্রথম চলচ্চিত্র। এরপর বেশ কিছু ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি, বিশেষ করে মারাঠি সিনেমায়।
তবে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পাননি নানা। ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করেন চলচ্চিত্রে। ১৯৮৬ সালের ‘অঙ্কুশ’ সিনেমার মাধ্যমে দর্শকের নজরে আসেন তিনি। এরপর ১৯৮৮ সালে ‘সালাম বোম্বে’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নির্মাতাদের কাছেও আরও পরিচিত হয়ে ওঠেন।
পরবর্তী সময়ে ‘পারিন্দা’, ‘প্রহার’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি’, ‘আব তক ছাপ্পান’, ‘অপরাধ’, ‘ওয়েলকাম’ ও ‘নটসম্রাট’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন নানা পাটেকর। তার অভিনয়ের পরিধিও ছিল বেশ বৈচিত্র্যময়। গভীর ও আবেগঘন চরিত্রের পাশাপাশি খলনায়ক ও কৌতুক চরিত্রেও দেখা গেছে তাকে।
অভিনয়জীবনে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন নানা পাটেকর। ১৯৮৯ সালে ‘পারিন্দা’ সিনেমার জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতা, ১৯৯৪ সালে ‘ক্রান্তিবীর’-এর জন্য সেরা অভিনেতা এবং ১৯৯৬ সালে ‘অগ্নিসাক্ষী’র জন্য আবারও সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার পান তিনি।
চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৩ সালে তাকে পদ্মশ্রী সম্মানেও ভূষিত করা হয়।
তথ্যসূত্র: দি ইকোনমিক টাইমস
/এসআইএন