ডনের প্রতিবেদন
প্রথম পাকিস্তানি মিউজিক ভিডিও হিসেবে ইউটিউবে ১ বিলিয়ন ভিউয়ের মাইলফলকে ‘পাসুরি’
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
কোক স্টুডিও, পাকিস্তান, সিজন ১৪। ভক্তদের হয়তো মনে আছে নিশ্চয়ই! আর থাকবেই না কেন। কারণ ওই সিজনের একটি গান বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে আলোড়ন ফেলেছিল অসাধারণ পাকিস্তানি সুর-কণ্ঠ-ভিডিও-কালচারাল হেরিটেইজ।
হ্যাঁ! বলছি আলি শেঠি ও শে গিলের 'পাসুরি' গানের কথা। পাকিস্তানের জনপ্রিয় এই গানটি ইউটিউবে এক বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ভিউয়ের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানে তৈরি প্রথম কোনো মিউজিক ভিডিও হিসেবে এই রেকর্ড গড়েছে ২০২২ সালে প্রকাশিত গানটি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য জানায় কোক স্টুডিও। সেখানে গানটি শুনেছেন, গানের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন এবং নিজেদের মতো করে গ্রহণ করেছেন—এমন প্রত্যেক শ্রোতাকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
কোক স্টুডিওর ১৪তম সিজনে প্রকাশিত ‘পাসুরি’ গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন আলি শেঠি ও শে গিল। ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, গানটি প্রকাশের পর থেকেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। প্রায় চার বছর সাত মাসের মধ্যে ইউটিউবে গানটির ভিউ ১০০ কোটির মাইলফলক ছাড়িয়েছে।
তবে এই সাফল্য অনেকটা প্রত্যাশিতই ছিল। প্রকাশের পর থেকেই পাকিস্তানের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের মধ্যেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে গানটি।
স্পটিফিতেও রেকর্ড
প্রকাশের বছরই ‘পাসুরি’ ছিল স্পটিফাইয়ে সবচেয়ে বেশি স্ট্রিম হওয়া পাকিস্তানি গান। এখনও গানটি আলি শেঠি ও শে গিল—দুজনেরই স্পটিফাইয়ে সবচেয়ে বেশি স্ট্রিম হওয়া গান। প্ল্যাটফর্মটিতে গানটির স্ট্রিম সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি ৫০ লাখ।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২২ সালে, গানের বিভাগে, গুগলে সবচেয়ে বেশি খোঁজা শব্দগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ‘পাসুরি’।
একই বছর গুগলের ‘Hum to Search’ ফিচারের মাধ্যমে খোঁজা গানগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল এটি।
এই মাইলফলক উদ্যাপন করতে আলি শেঠি, শে গিল এবং সংগীত প্রযোজক জুলফিকার খান (জুলফি) ও আবদুল্লাহ সিদ্দিকিকে নিয়ে একটি রিলও প্রকাশ করেছে কোক স্টুডিও।
কোকা-কোলার আঞ্চলিক মহাব্যবস্থাপক সামি ওয়াহিদ বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে কোক স্টুডিও পাকিস্তানের সংগীত, ভাষা ও গল্প বিশ্বের ১৮০টিরও বেশি দেশের দর্শক-শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। ‘পাসুরি’ দেখিয়েছে, নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থেকেও একটি গান কীভাবে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।
‘পাসুরি’ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে
প্রকাশের পর থেকেই ‘পাসুরি’ বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করে। পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে গানটির অসংখ্য কাভার ভার্সন তৈরি হয়েছে। এমনকি উপমহাদেশের বাইরেও গানটি নতুন করে পরিবেশিত হয়েছে।
ডিজনির জনপ্রিয় সিরিজ ‘মিস মার্ভেল’-এর সাউন্ডট্র্যাকেও জায়গা করে নেয় ‘পাসুরি’। পাকিস্তানি সংস্কৃতির নানা উপাদানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল ওই সিরিজে। এর প্রধান চরিত্রও একজন পাকিস্তানি-আমেরিকান তরুণী।
গানটির আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তার আরেকটি বড় প্রমাণ হলো ইউটিউবের ভিউয়ের হিসাব। ‘পাসুরি’র মোট ইউটিউব ভিউয়ের ৯০ শতাংশেরও বেশি এসেছে পাকিস্তানের বাইরে থেকে। বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে গানটির অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিও দেখা হয়েছে।
আফ্রিকান আফ্রোবিটসেও ‘পাসুরি’
‘পাসুরি’র জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে গানটির নতুন সংস্করণও তৈরি হয়েছে। কোক স্টুডিও আফ্রিকা গানটির একটি রিমিক্স প্রকাশ করে, যেখানে আলি শেঠির সঙ্গে কাজ করেন নাইজেরিয়ার শিল্পী মারওয়ান মুসা ও রিকাডো ব্যাংকস।
নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটসের সঙ্গে পাকিস্তানি সংগীতের মিশেলে তৈরি ওই সংস্করণও গানটির আন্তর্জাতিক আবেদন আরও বাড়িয়ে দেয়।
এদিকে ‘পাসুরি’র জনপ্রিয়তার পর বলিউডেও গানটির নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করা হয়। ভারতীয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিংয়ের কণ্ঠে গানটির নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হলে পাকিস্তানসহ অনেক শ্রোতার মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
তবে নানা বিতর্ক ও সংস্করণ তৈরি হওয়ার মধ্যেও মূল ‘পাসুরি’র জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। বরং ইউটিউবে ১০০ কোটি ভিউয়ের মাইলফলক ছুঁয়ে গানটি এখন পাকিস্তানি সংগীতের আন্তর্জাতিক সাফল্যের অন্যতম বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
/এআই