×
Logo

বিনোদন

ওয়াশিংটন টাইমসের প্রতিবেদন

আর্জেন্টিনা বিশ্বের অন্যতম বর্ণবাদী দেশ: স্যামুয়েল জ্যাকসন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

আর্জেন্টিনা বিশ্বের অন্যতম বর্ণবাদী দেশ: স্যামুয়েল জ্যাকসন

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের পর দেশটির জাতীয় ফুটবল দলকে সমর্থন না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন হলিউড অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন। তিনি আর্জেন্টিনাকে ঐতিহাসিকভাবে 'বিশ্বের অন্যতম বর্ণবাদী দেশ' বলেও মন্তব্য করেন।

৭৭ বছর বয়সী এই অভিনেতা রোববার নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। মূল পোস্টটি ছিল এসইসি ব্ল্যাক অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক-এর। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি তার অভিনীত 'জ্যাঙ্গো আনচেইন্ড' চলচ্চিত্রের স্টিফেন চরিত্রের একটি ছবি আর্জেন্টিনার জার্সি পরা অবস্থায় দেখানো হয়। ছবিটি দিয়ে এমন একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়, যিনি শ্বেতাঙ্গ দাসমালিকের প্রতি অনুগত।

পোস্টে বলা হয়, 'আর্জেন্টিনা ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বের অন্যতম, এমনকি সবচেয়ে বর্ণবাদী দেশ।' 

এতে আরও লেখা ছিল, 'আপনি যদি একজন কৃষ্ণাঙ্গ হয়ে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করেন, তাহলে আমার কাছে আপনাকে এমনই মনে হয়।'

পোস্টটি আসে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের কয়েক ঘণ্টা পর। ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে জয়সূচক গোল করেন ফেরান তোরেস। ওই ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে লাল কার্ড পান আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। পুরো ১২০ মিনিটে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের গোলে একটি শটও রাখতে পারেনি।

তবে জ্যাকসনের পোস্টের বিরোধিতাও করেছেন অনেকে। তাদের দাবি, আর্জেন্টিনার ইতিহাস এতটা একপাক্ষিক নয়। তারা ১৮১৩ সালের 'ফ্রি উম্ব ল'-এর মতো দাসপ্রথাবিরোধী আইন এবং দেশটির দীর্ঘদিনের অভিবাসীবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করেন।

এদিকে, টুর্নামেন্টজুড়েই আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বর্ণবাদের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা ছিল। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনা অনেকের কাছে 'ভিলেন' হিসেবে পরিচিতি পায়। এর আগেও আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থকের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ ওঠে। এক ঘটনায় একজন কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন লাইভস্ট্রিমারকে উদ্দেশ করে এক আর্জেন্টাইন সমর্থককে 'চিড়িয়াখানায় গিয়ে কাঁদো' বলতে শোনা যায়। এছাড়া ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বানরের অঙ্গভঙ্গি ও বর্ণবাদী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগও আগে একাধিকবার সামনে এসেছে।

তবে আর্জেন্টিনার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সান মার্টিন-এর সমাজবিজ্ঞানী ইভান শুলিয়াকের মতে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার ভিত্তিতে পুরো দেশকে বর্ণবাদী আখ্যা দেওয়া ঠিক নয়। এএফপিকে তিনি বলেন, যেসব দেশ নিজেরাই বর্ণবাদের ইতিহাস পুরোপুরি মোকাবিলা করতে পারেনি, অনেক সময় তারাই এমন সাধারণীকরণ করে।

এদিকে ফাইনাল শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। অভিযোগ রয়েছে, ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন। এরপর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

তবে ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, 'জয়ে যেমন উদার থাকতে হয়, পরাজয়েও তেমনই আচরণ করা উচিত।'

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া কালজয়ী মুভি 'পাল্প ফিকশন'-এর  অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন। এছাড়াও জ্যাঙ্গো আনচেইন্ড, দ্য হেইটফুল এইট, দ্য হিটম্যানস বডিগার্ড, ক্যাপ্টেন আমেরিকা: দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জার, দ্য অ্যাভেঞ্জার্স, ক্যাপ্টেন আমেরিকা: দ্য উইন্টার সোলজারসহ বহু মুভিতে অভিনয় করেছেন তিনি।

স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় করছেন। তিনি নিক ফিউরি, জুলস উইনফিল্ড (পাল্প ফিকশন), মেস উইন্ডু (স্টার ওয়ার্স) এবং স্টিফেন (জ্যাঙ্গো আনচেইন্ড) চরিত্রে অভিনয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে বিশেষভাবে পরিচিত। 

/এআই 

Logo