×
Logo

অর্থনীতি

'লাল স্বর্ণ' জাফরান: কাশ্মিরে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মশলার সঙ্কট কেন?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ পিএম

'লাল স্বর্ণ' জাফরান: কাশ্মিরে পৃথিবীর সবচেয়ে দামি মশলার সঙ্কট কেন?

কাশ্মিরের শ্রীনগরের পুরোনো বাজারে পর্যটকদের ভিড়। আখরোট, মসলা আর শুকনো ফলের তাকের পেছনে বসে এক দোকানি। কাশ্মিরি জাফরান চাইতেই তিনি একবার দরজার দিকে তাকালেন। তারপর কাউন্টারের নিচ থেকে কাপড়ে মোড়ানো একটি ছোট স্টিলের কৌটা বের করলেন। ভেতরে কয়েকটি গাঢ় লাল সুতার মতো।

তিনি জানালেন, এটা পাম্পোরের জাফরান। এ বছর খুব কম আবাদ হয়েছে জানিয়ে আরেকটা বয়াম দেখালেন। বললেন, 'ওটা ইরানি জাফরান। অনেকে এটাকে কাশ্মিরি বলে বিক্রি করছে।  বেশিরভাগ ক্রেতা কাশ্মিরি আর ইরানি জাফরানের পার্থক্য ধরতে পারবে না। আবার কখনও অন্য ফুল ও রঙ মেশানোর অভিযোগও পাওয়া যায়।' কাশ্মিরি জাফরান মান ও দামে ইরানির চেয়ে ভালো বলেও উল্লেখ করেন তিনি। 

পাহাড়ি এই অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে জাফরানের জন্য বিখ্যাত। কাশ্মিরের সংস্কৃতিতেও জাফরান গভীরভাবে মিশে আছে। বিয়ের খাবার, দুপুরের নুন চা, ঐতিহ্যবাহী ওষুধ ও আতরে এর ব্যবহার। উপত্যকার সবচেয়ে মূল্যবান রফতানি পণ্যের একটিও এটি।


সাধারণত মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত ফসল তোলার মৌসুমে কারেওয়া মালভূমি ছেয়ে যায় বেগুনি ক্রোকাস ফুলে। ভোর হওয়ার আগেই পরিবারগুলো বেতের ঝুড়ি নিয়ে মাঠে নামে। কিন্তু গেল বছর থেকেই মাঠ ছিল অনেকটাই ফাঁকা। 

এক কৃষক জানান, গত বছরও তিনি দেড় কেজি জাফরান পেয়েছিলেন। এবার পেয়েছেন মাত্র ২৫০ গ্রামের মতো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দামি এই ফসল চাষে পরিবেশের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হয়। প্রয়োজনের সময় বৃষ্টি না এলে ফুল আসা খুব দ্রুত ব্যাহত হয়।

জাফরান আসে ক্রোকাস স্যাটিভাস নামের গাছ থেকে। প্রতিটি ফুলে থাকে তিনটি লাল পরাগদণ্ড। ভোর হওয়ার আগে হাতে তুলে সেগুলো আলাদা করা হয়। তারপর কয়েক ঘণ্টা শুকানো হয়। এক আউন্স (২৮ গ্রাম) জাফরানের জন্য লাগে প্রায় চার হাজার ফুল। গাছে ফুল ফোটে বছরে মাত্র দুই থেকে চার সপ্তাহ। তাই একে বলা হয় 'লাল স্বর্ণ'।

কাশ্মিরি জাফরান পরিচিত গাঢ় লাল রং আর তীব্র ঘ্রাণের জন্য। ইরানি জাফরানের চেয়ে এর দাম সাধারণত অনেক বেশি। প্রতি গ্রামের দাম চার ডলার বা তার বেশিও হতে পারে।

কাশ্মির ও জম্মু মিলিয়ে জাফরানের উৎপাদন ২০১০-১১ সালের আট টন থেকে নেমে ২০২৩-২৪ সালে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৬ টনে।


গবেষকেরা বলছেন, আগস্ট-সেপ্টেম্বরের বৃষ্টি জাফরানের ফুল ও কন্দ গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। এ সময় খরা হলে ফলন তীব্রভাবে কমে যায়। কাশ্মিরভিত্তিক জলবায়ু গবেষকরা জানান, শরতের শুষ্ক সময় এখন দীর্ঘ ও ঘন ঘন হচ্ছে। তুষারপাতের ধরনও বদলেছে। যা ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ ও মাটির আর্দ্রতাকে প্রভাবিত করছে।

এরমধ্যে কিছু গবেষণা জাফরান নিয়ে আশার আলোও দেখিয়েছে। শ্রীনগরের কাছে উদ্যানতত্ত্ব বিজ্ঞানী নেয়াজ আহমদ দার নিয়ন্ত্রিত কক্ষে জাফরান ফোটানোর গবেষণা করছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক গবেষণায় ফুল ফোটার স্থিতিশীলতা ও ক্রোসিন ধরে রাখার ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলেছে।

(বিবিসির ফিচার অবলম্বনে)

/এমএমএইচ

Logo