বাইন্যান্সে হ্যাকিং: সাইবার নিরাপত্তা জোরদারে তৎপর ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলো
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
বড় ধরনের সাইবার হামলার পর নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ। দ্রুত তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছেন খাতটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্সে রেকর্ড ৬৩০ কোটি ডলারের সাইবার হামলার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে পুরো ক্রিপ্টো জগতে। এ ঘটনার পর নিজেদের সুরক্ষাব্যবস্থা জোরদারে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে বিভিন্ন ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি উঠেছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইন্যান্সে বড় ধরনের নিরাপত্তা বিপর্যয়ের পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজেদের সিস্টেম পর্যালোচনা শুরু করেছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি সংরক্ষণের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেস জানিয়েছে, সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তারা অফলাইনে ক্রিপ্টোকারেন্সির নিরাপত্তায় কিছু পরিবর্তন এনেছে। অন্যদিকে ক্র্যাকেন জানিয়েছে, শিল্পখাতে ঘটে যাওয়া নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করছে তারা। এসব ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।
বাইন্যান্সের সহপ্রধান নির্বাহী রিচার্ড টেং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, জটিল এ হামলার সূত্রপাত হতে পারে প্রতিষ্ঠানের একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলীর ল্যাপটপের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। এর ফলে হ্যাকাররা অর্থ উত্তোলন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ পায়। পরে আরও কিছু নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি। হামলার চিহ্ন মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে তৈরি সফটওয়্যার তদন্তকাজকেও জটিল করে তোলে।
হামলার পর বাইন্যান্স অর্থ উত্তোলন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের লোকসান নিজেদের তহবিল থেকে পূরণ করবে তারা।
ক্রিপ্টো ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান সার্কিটের প্রধান নির্বাহী হ্যারি ডনেলি বলেন, এ ধরনের হামলা ঠেকাতে কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
হামলার অর্থ দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্টেবলকয়েন ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান টেথার বাইন্যান্স হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৫৭ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে। সার্কেল জব্দ করেছে ৮০ কোটি ডলারের সম্পদ। তবে বিটকয়েন ও ইথার জব্দ করা সম্ভব নয়, কারণ এসব মুদ্রার ওপর কোনো একক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সির সংযুক্তি বাড়ার সময়েই এ ধরনের হামলা নতুন করে নিরাপত্তার ঝুঁকি সামনে এনেছে। ফলে গ্রাহকের সম্পদ সুরক্ষায় একক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগের পাশাপাশি পুরো শিল্পখাতের সমন্বিত পদক্ষেপ এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।
/এমএমএইচ