×
Logo

অর্থনীতি

আসছে গ্রিন বন্ড: পরিবেশ ও জলবায়ু প্রকল্পে বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ

তৌহিদ হোসেন

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

আসছে গ্রিন বন্ড: পরিবেশ ও জলবায়ু প্রকল্পে বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ

বিশ্বে প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে বন্ড মার্কেটের আকার। যা মূলত এক ধরনের ঋণপত্র বা চুক্তি। যদি কোনো সরকার বা কোম্পানি কোনো প্রকল্পের জন্য ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ ধার করতে চায়, তখন ঋণপত্র বা বন্ড ইস্যু করে। এর বিনিময়ে নির্দিষ্ট হারে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায়। মেয়াদ শেষে হলে মিলে আসল টাকাও। এ মুহূর্তে বিশ্বের বন্ড বাজারের আকার প্রায় দেড়শ ট্রিলিয়ন ডলার।

সেই ধারণাকেই ইদানিং পরিবেশ রক্ষায় কাজে লাগাচ্ছে উন্নত বিশ্ব। যার নাম গ্রিন বন্ড। মূলত পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়ক এমন প্রকল্পে এই ঋণপত্র ইস্যু করা হয়। তাই সোলার সিস্টেম, বায়ু বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ সবুজ অবকাঠামো, রিসাইক্লিং, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও চার্জিং স্টেশনের মতো প্রকল্পে গ্রিন বন্ডের ব্যবহার বাড়ছে। বিনিয়োগে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানি।

এবার সে সুযোগ নিতে চায় বাংলাদেশ। কেননা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বিকল্প অর্থায়ন এখন বেশ জরুরি। এরই মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গ্রিন বন্ড চালু করতে আলাদা নীতিমালা তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অনুমোদন পেয়েছে বিভিন্ন ব্যাংকের সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব।

এর বাইরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গ্লোবাল গ্রিন বন্ড ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে প্রায় ২০ বিলিয়ন ইউরোর বেসরকারি পুঁজি সচল ও ১ বিলিয়ন ডলারের সভেরিন বন্ড ইস্যুর সম্ভাব্যতা যাচাই করছে সরকার। 

প্রধানমন্ত্রী অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বললেন, কনসেশনাল ঋণ তো দিন দিন হ্রাস পাবে। আমরা নতুন রকমের ফাইনান্সিং ফর ডেভলপমেন্টও চিন্তা করছি। সেক্ষেত্রে আমরা অনেক রকমের আরও অনেকগুলো চিন্তা করছি, সরকারের সাথে যে ফাউন্ডেশনগুলো আছে, সেগুলোরও লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হচ্ছে। তারপরে সরকারি মালিকানাধীন যে ব্যাংকগুলো আছে, তাদেরও কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ধরছে।

বিশেষায়িত বন্ড ইস্যুতে স্টক এক্সচেঞ্জের সাথে আলাদা বৈঠক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সেক্ষেত্রে চালু হতে পারে আলাদা প্ল্যাটফর্ম। তৈরি হচ্ছে নতুন ‘ইএসজি ট্যাক্সোনমি’ বা পরিবেশ সামাজিক নীতিমালাও।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ মার্কেটে এই বন্ড গ্রীন বন্ড ইস্যুর জন্য কাজ করবে। উনারা যখন কোনো একটা বন্ডে ইনভেস্ট করে, উনারা দেখেই নেয়; সেখানে সব ক্রাইটেরিয়া গ্রীন বন্ডের পারপাস ফুলফিল করেছে কি না। তো উনারা বিনিয়োগ করলে এটি সার্টিফিকেটের মতো, তখন অন্য বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হয়।

নলেজ হাব ইন্সটিটিউটের সভাপতি ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেছেন, মধ্য আয়ের মানুষ বা কিছুটা সেভিংস করছে এই মানুষ বিনিয়োগ করতে চান। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এই বন্ড মার্কেটগুলোকে শুধু অর্থ সংযোগের জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে যে পারপাসে এগুলো নিয়ে কাজ করার কথা সেদিকে আসলে থাকে না। গ্রীন বন্ড একটা ইতিবাচক দিক, যেখানে হয়তো ইনস্টিটিউশনাল ফান্ড আসতে পারে। এমনকি ব্যক্তি ফান্ডও আসার সুযোগ রয়েছে। 

গ্রিন বন্ডের জন্য ন্যূনতম ইস্যু ফি নির্ধারণের পাশাপাশি করছাড়ে একাধিক প্রণোদনা দিতে চায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

/এমএন

Logo