×
Logo

অর্থনীতি

যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত ওষুধ রফতানি: প্রস্তুতির জন্য সময় দরকার ৩ বছরের মতো

হুমায়ুন রশীদ

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত ওষুধ রফতানি: প্রস্তুতির জন্য সময় দরকার ৩ বছরের মতো

স্বাধীনতার পর দেশের ৮০ শতাংশ ওষুধের জন্যই মুখিয়ে থাকতে হতো বিদেশের দিকে। ’৮২-এর জাতীয় ওষুধ নীতির পর ধীরে ধীরে সেই চিত্র এখন বদলেছে। বর্তমানে চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধই তৈরি হয় দেশে। এমনকি ১৪০টি দেশে রফতানিও করে বাংলাদেশ, গত ১৬ বছরে যে আয় বেড়েছে ৫ গুণের বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল ৩ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি।

এদিকে, জেনেরিক ওষুধ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বিশেষায়িত ওষুধও সরবরাহ করে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধ রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকলেও যেসব ওষুধের প্যাটেন্ট রয়েছে, তার ক্ষেত্রে গুণতে হয় ১৮ শতাংশ শুল্ক।

তবে এবার এসেছে নতুন সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশসহ ২০টি দেশকে বিশেষায়িত ওষুধ ও কাঁচামাল এপিআই রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প সরকার। যার মধ্যে থাকবে ক্যানসার প্রতিরোধী, ইনহেলার, হরমোনাল ও স্টেরয়েড ড্রাগসের মতো ওষুধ।

তবে, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মতে, এই সুবিধা পুরোপুরি পেতে এখনও ৩ বছরের কমবেশি লাগবেই। কেননা, কারখানার প্রযুক্তিগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের বিষয় রয়েছে। তবে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি ওষুধের ব্র্যান্ড ভ্যালু বা গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে।

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হালিমুজ্জামান বলেছেন, কেউ যদি একটি পণ্য নিয়ে এখন শুরু করে অন্তত তিন থেকে চার বছর সময় লাগবে, এটি কিন্তু  ফ্যাসিলিটি অ্যাপ্রুভালের বাইরে। যুক্তরাষ্ট্রে ট্যারিফের বিষয়টা খুব খুব ঘন ঘন পরিবর্তন হয়। এটা যদি পরিবর্তন না হয়, আমরা যারা ওই দেশে রফতানি করতে চাই, তারা যদি রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টের কাজটা করি, তাহলে আমরা ওই মার্কেটে যেতে পারবো। এটিই হচ্ছে ভবিষ্যৎ।

এই বিশেষায়িত ওষুধের কাঁচামাল রফতানির শুল্কমুক্ত সুবিধারও সুযোগ রয়েছে। তবে, বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশ ৯০ শতাংশ কাঁচামাল চীন, জাপান, ভারত ও পশ্চিমের কিছু দেশ থেকে আমদানি করে। দেশে এসব কাঁচামাল তৈরি সম্ভব। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এপিআই পার্কের কাজও চলমান। তবে, এখানেও বড় চ্যালেঞ্জ গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের সরবরাহ। 

মো. হালিমুজ্জামান বললেন, গ্যাস না পেলে যে কাঁচামাল বানাবো, তাতে যে খরচ পড়বে তার থেকে অনেক কম খরচ লাগবে রফতানি করতে। দ্বিতীয়ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি।

তবে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি যে দীর্ঘস্থায়ী বা অপরিবর্তনশীল তেমনটাও না। শুল্কছাড় নিয়ে কথা না হলেও নন ট্যারিফ ব্যারিয়ার কমানোর বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

ওষুধ শিল্প সমিতির মতে, অন্তত ১০টি কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভালো করার সক্ষমতা আছে। এর মধ্যে বিশেষায়িত ওষুধ রফতানির লাইসেন্স আছে ৫টি কোম্পানির।

/এমএন

Logo