×
Logo

অর্থনীতি

সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তে ব্যর্থতা

ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১.২১ বিলিয়ন ডলার জরিমানা: রয়টার্স

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১১ এএম

ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১.২১ বিলিয়ন ডলার জরিমানা: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে অর্থপাচার ও অন্যান্য অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ড শনাক্তে ব্যাপক ব্যর্থতার দায়ে ব্যাংক অব আমেরিকাকে ১.২ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো। 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়। 

ব্যাংক অব আমেরিকা বলেছে, এ জরিমানার জেরে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে, তাদের মুনাফা কমবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি তথ্য সরকারের কাছে জানাতে ব্যর্থ হয়েছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের লেনদেন জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট ঝুঁকি এবং অন্যান্য অগ্রাধিকারভিত্তিক অবৈধ অর্থায়নের আশঙ্কা তৈরি করেছিল। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে এটি তৃতীয় বৃহত্তম জরিমানা।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সামনের সারিতে রয়েছে। এত বড় একটি ব্যাংক যখন অর্থপাচারবিরোধী ও নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থ হয়, তখন তার পরিণতি শুধু ওই প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং পুরো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থাই অবৈধ অর্থায়নের বড় ঝুঁকিতে পড়ে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, আইন মেনে চলার কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকটি নিজেদের আয়ের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। পাশাপাশি, নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ওপর নির্ভর 'না' করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো বাইরের পক্ষগুলোর অনুসন্ধান বা তথ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছে তারা।

জরিমানার সঙ্গে দেওয়া সম্মতিমূলক আদেশ অনুযায়ী, অতীতের লেনদেন পর্যালোচনার জন্য একজন স্বাধীন তৃতীয় পক্ষ নিয়োগ করতে হবে ব্যাংক অব আমেরিকাকে। ওই পর্যালোচনায় আগে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়া সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত করে সেগুলোর তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের ফিন্যানশিয়াল ক্রাইমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্কের (ফিনসেন) কাছে জমা দিতে হবে।

ব্যাংক অব আমেরিকার এক মুখপাত্র বিবৃতিতে বলেন, ‘আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধে নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং এ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করা আমাদের কর্তব্য।’

তিনি আরও বলেন, আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায়, প্রযুক্তি খাতে, কয়েকশ' মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে ব্যাংকটি এবং হাজার হাজার কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় কাজও অনেক দূর এগিয়েছে। বাকি কাজ সম্পন্ন করতেও তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মুখপাত্র জানান, বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত হতে যাওয়া ব্যাংকটির তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে ১.২ বিলিয়ন ডলারের কর-ছাড়ে অযোগ্য ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর ফলে প্রতি শেয়ারে ত্রৈমাসিক নিট আয় প্রায় ১৭ সেন্ট কমে যাবে।

এলএসইজির সংকলিত বিশ্লেষকদের গড় পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হতে পারে ১.১০ ডলার। তবে এই হিসাবের মধ্যে এ ধরনের এককালীন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নেই।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নিয়মিত লেনদেন শেষে ব্যাংকটির শেয়ারের দাম ১.১ শতাংশ কমে যায়। এরপর লেনদেন-পরবর্তী কার্যক্রমে দাম আরও ২.৭ শতাংশ কমেছে।

ইউবিএসের বিশ্লেষক এরিকা নাজারিয়ানের মতে, এ জরিমানা বিনিয়োগকারীদের নেতিবাচক মনোভাব আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংকটির ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রতি প্রান্তিকে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার পুনঃক্রয় কর্মসূচি অব্যাহত রাখার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা উল্লেখ করে নাজারিয়ান বলেন, ‘আমাদের ধারণা, বাজার খোলার সময় ব্যাংকটির শেয়ারের দর তুলনামূলকভাবে খারাপ করতে পারে।’

তবে তিনি উল্লেখ করেন, জরিমানার সঙ্গে ব্যাংকটির সম্পদের আকার সীমিত করে দেওয়ার কোনো শর্ত যুক্ত করা হয়নি। এ ধরনের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা কার্যকর হলে একটি ব্যাংকের ব্যবসা ও সম্পদ সম্প্রসারণের ওপর সীমা আরোপ করা যায়।

/এআই 

Logo