×
Logo

অর্থনীতি

আরব নিউজের প্রতিবেদন

খেজুর রফতানিতে টানা ৪র্থ বছরের মতো বিশ্বে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সৌদি আরব

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

খেজুর রফতানিতে টানা ৪র্থ বছরের মতো বিশ্বে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সৌদি আরব

খেজুর রফতানিতে টানা চতুর্থ বছরের মতো বিশ্বে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সৌদি আরব। ২০২৫ সালে, দেশটি ১৯৩ কোটি ৮০ লাখ সৌদি রিয়াল বা প্রায় ৫৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের খেজুর রফতানি করেছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রের (আইটিসি) তথ্যের বরাত দিয়ে শনিবার সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর দেশটির খেজুর রফতানির মূল্য বেড়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ।

খেজুর রফতানির এই প্রবৃদ্ধি সৌদি অর্থনীতিতে কৃষি খাতের ক্রমবর্ধমান অবদান এবং ‘সৌদি ভিশন ২০৩০’-এর আওতায় কৃষিপণ্য রফতানি বাড়ানোর প্রচেষ্টার সাফল্য হিসেবে দেখছে দেশটি।

সৌদির ন্যাশনাল সেন্টার ফর পামস অ্যান্ড ডেটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহমেদ আল-মুসা বলেন, সৌদি নেতৃত্বের সহযোগিতা এবং সরকারি সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টাই এই সাফল্যের মূল কারণ।

তার মতে, এসব উদ্যোগের ফলে সরবরাহব্যবস্থা আরও উন্নত হয়েছে, রফতানি প্রক্রিয়া কার্যকর হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি খেজুরের পরিধি বেড়েছে।

আল-মুসা বলেন, সৌদি খেজুরের গুণগত মান ও বৈচিত্র্যের পাশাপাশি উৎপাদন দক্ষতারও উন্নতি হয়েছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে সৌদি আরবের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক খুচরা বাজারেও দেশটির খেজুরের উপস্থিতি বেড়েছে।

খেজুর রফতানিতে সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ করতে ন্যাশনাল সেন্টার ফর পামস অ্যান্ড ডেটসের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগও এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমানে সৌদি আরবের খেজুর ১২৫টিরও বেশি দেশে রফতানি হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের চাহিদা ও স্বাদের বৈচিত্র্য পূরণে সৌদি খেজুরের মান ও বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানান আল-মুসা।

সৌদি আরব বর্তমানে বছরে ১৯ লাখ টনেরও বেশি খেজুর উৎপাদন করে। দেশটিতে খেজুরগাছের সংখ্যা ৩ কোটি ৭০ লাখের বেশি।

খেজুর খাতের পুরো মূল্যশৃঙ্খল উন্নত করা, উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি খেজুরের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি ও উদ্যোগ পরিচালনা করছে ন্যাশনাল সেন্টার ফর পামস অ্যান্ড ডেটস।

সৌদি সরকারের ভাষ্য, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে খেজুরকে শুধু একটি কৃষিপণ্য হিসেবে নয়, বরং নিরাপদ ও উচ্চমানের খাদ্যপণ্য হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্তিশালী ব্র্যান্ডে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।

এছাড়াও সৌদি খেজুরের রফতানি গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

২০২১ সালে, সৌদি আরব, ১২১ কোটি ৫০ লাখ রিয়াল মূল্যের খেজুর রফতানি করে, প্রথমবারের মতো, এক্সপোর্ট কান্ট্রি হিসেবে বিশ্বে শীর্ষস্থান অর্জন করে।

পরের বছর, ২০২২ সালে, রফতানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ১২৮ কোটি রিয়াল। ওই বছর সৌদি খেজুর পৌঁছে যায় ১১৬টি দেশে।

এরপর ২০২৩ সালে, রফতানি আরও বেড়ে হয় ১৪৬ কোটি ২০ লাখ রিয়াল, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালে রফতানি মূল্য ১৫.৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১৬৯ কোটি ৫০ লাখ রিয়ালে।

এর আগে, ২০১৬ সালের তুলনায়, ২০২৫ সালে, সৌদি খেজুর রফতানির মূল্য বেড়েছে ১৯২.৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় এক দশকে রফতানি আয় প্রায় তিনগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এ সময়ে গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ছিল ১২.৭ শতাংশ।

উল্লেখ্য, খেজুর উৎপাদনের দিক থেকেও সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। বৈশ্বিক মোট খেজুর উৎপাদনের প্রায় ১৭ শতাংশ আসে দেশটি থেকে। উৎপাদনের হিসাবে বিশ্বে সৌদি আরবের অবস্থান দ্বিতীয়।

দেশটির খেজুরের স্বয়ংসম্পূর্ণতার হার ১২৫ শতাংশের বেশি। ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ খেজুর বিদেশে রপ্তানি করার সুযোগ রয়েছে সৌদি আরবের।

খেজুর শুধু সৌদি আরবের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ নয়; দেশটির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

সৌদি আরবের আল-আহসা মরূদ্যান এর অন্যতম বড় উদাহরণ। প্রায় ৮৫.৪ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই মরূদ্যানে রয়েছে ২৫ লাখের বেশি খেজুরগাছ।

২০১৮ সালে আল-আহসা মরূদ্যানকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর দুই বছর পর, ২০২০ সালে, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বয়ংসম্পূর্ণ মরূদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

/এআই 

Logo