×
Logo

অর্থনীতি

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব বিনিয়োগেও, লগ্নি টানতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি কৌশল

তৌহিদ হোসেন

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৯ পিএম

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব বিনিয়োগেও, লগ্নি টানতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি কৌশল

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগে। আপৎকালীন সমাধান এলেও বিদেশি লগ্নি টানতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি কৌশল। এ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু হলে বিনিয়োগের সংকট অনেকটাই কাটবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তব সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

বেশ কয়েক বছর ধরেই বিনিয়োগের টক্করে প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে বাংলাদেশ। ২০১৯ থেকে ২০২৪—এই পাঁচ বছরে পার্থক্য আরও বাড়ে। তখন দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই আসে গড়ে দেড় বিলিয়ন ডলার হারে। অথচ একই সময়ে দ্বিগুণের বেশি বিনিয়োগ পেয়েছে কম্বোডিয়া। ভিয়েতনামের গড় এফডিআই ছিল বছরে ১৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি। দেশে স্থায়ী মূলধন গঠনেও বিদেশি বিনিয়োগের অংশ মাত্র এক ভাগ।

সম্প্রতি জেনেভায় জাতিসংঘের ইনভেস্টমেন্ট, এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমিশনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। আঙ্কটাড জানায়, বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে ৩২টি প্রতিশ্রুতির ২৫টি সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে।

তবে সমন্বিত বিনিয়োগ নীতি ও আইন প্রণয়ন নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেছে। শতভাগ ডিজিটাল ব্যবসায়িক অনুমোদন ব্যবস্থা চালু নিয়েও প্রশ্ন ওঠে জেনেভায়। আলোচনা হয় মানসম্মত অবকাঠামো ও দক্ষ শ্রমিকের ঘাটতি নিয়ে। এর বাইরে বিদেশি বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের এসএমই খাতের সংযোগ শক্তিশালী করার তাগিদ দেয় জাতিসংঘ।

ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, লক্ষ্য হলো আরও দেড় বিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ প্রস্তাব (পাইপলাইন) তৈরি করা। চলতি বছরের প্রথমার্ধে প্রায় সাড়ে তিনশত মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছি। এখন চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু ও চীনে অফিস স্থাপনের পর, সেখান থেকে আরও বড় পরিমাণ বিনিয়োগের প্রস্তাব আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নাম বদলে কিছুদিন আগেই যাত্রা শুরু করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ হিসেবে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নানা সংকটে দেড় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাবের মাত্র ৪০ কোটি ডলার নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। এখনো পুরোপুরি সচল করা যায়নি ওয়ান স্টপ সার্ভিস। আলোচনা চলছে বেশ কয়েকটি মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়েও।

নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সংকট এখন বড় সমস্যা এবং সবাই বিষয়টি স্বীকার করছে। দ্রুত এই সংকট সমাধানে সরকার কাজ করছে। কিছু স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সমাধানের জন্য ল্যান্ডভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের বড় অবকাঠামো প্রকল্পই ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি সংকট কাটাতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

রাজনৈতিক পালাবদলের পর সব সরকারই বিনিয়োগ বাড়ানোর আশ্বাস দেয়। কিন্তু সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে দুর্বল অর্থনীতি পাওয়ার যুক্তি দিচ্ছে বারবার। ব্যাংকে নীতি সুদহার কমলেও ঋণবাজারে মন্দা। তাহলে কীভাবে বিনিয়োগ বাড়বে?

সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে প্রশাসনিক জটিলতা, দুর্বল প্রতিষ্ঠান ও দুর্নীতির মতো সমস্যাগুলো দূর করতে হবে। বিশেষ করে উৎপাদন খাতে (ম্যানুফ্যাকচারিং) নতুন বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং উন্নত পরিবহন ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা (লজিস্টিকস) নিশ্চিত করা জরুরি।

বিবিএসের হিসাবে, ১৪ বছরের মধ্যে জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগের গতি এখন সবচেয়ে কম। উদ্যোক্তাদের ঋণ নেওয়ার হারও গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

/এসআইএন


Logo