×
Logo

অর্থনীতি

বিবিসি'র প্রতিবেদন

অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধে জার্মান কোম্পানিকে ১.২ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধে জার্মান কোম্পানিকে ১.২ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে অফশোর উইন্ড ইলেকট্রিসিটি প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়াতে জার্মান জ্বালানি কোম্পানি আরডব্লিউইকে এক দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার দেওয়ার চুক্তি করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতার পর দেশটিতে নিজেদের অফশোর উইন্ড প্রকল্পগুলো বাতিল করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কোম্পানিটি।

আরডব্লিউই জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে পাওয়া অর্থের বড় একটি অংশ এখন প্রচলিত গ্যাসভিত্তিক জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে তারা। এর মধ্যে প্রায় ৯০ কোটি ডলার ব্যয় করা হবে লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি (LNG) রফতানি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে।

এক বিবৃতিতে কোম্পানিটি বলেছে, ‘সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনার পর আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, অদূর ভবিষ্যতে, যুক্তরাষ্ট্রে এসব প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়ার কোনো বাস্তবসম্মত পথ নেই।’

সমঝোতার আওতায় ক্যালিফোর্নিয়া ও লুইজিয়ানা উপকূল এবং নিউইয়র্ক এলাকায় থাকা নিজেদের ইজারা নেওয়া সমুদ্রাঞ্চলও ছেড়ে দেবে আরডব্লিউই।

তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পুরোপুরি বিনিয়োগ গুটিয়ে নিচ্ছে না জার্মান কোম্পানিটি। বরং আগামী ছয় বছরে দেশটিতে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ইউরো বা ১৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতেই এই অর্থ বিনিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে আরডব্লিউই।

এদিকে, মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, আমেরিকানদের এমন একটি জ্বালানি ব্যবস্থা প্রাপ্য, যা বাস্তববোধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে; ব্যয়বহুল ভর্তুকির ওপর নির্ভরশীল হবে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করে, এমন প্রকল্পে আরডব্লিউইর এই চুক্তি ও স্বেচ্ছায় বিনিয়োগকে আমরা স্বাগত জানাই।’

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আরডব্লিউইর এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রে অফশোর প্রকল্প বন্ধে চলতি বছরে নেওয়া সর্বশেষ পদক্ষেপগুলোর একটি। জীবাশ্ম জ্বালানির অন্যতম সরব সমর্থক ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অফশোর উইন্ড প্রকল্পগুলো বন্ধ বা সীমিত করার উদ্যোগ নিয়ে আসছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় ‘ড্রিল, বেবি, ড্রিল’ স্লোগান ব্যবহার করে তেল-গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন ট্রাম্প। ক্ষমতায় ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা উইন্ড ইলেকট্রিসিটির পথে যাব না।’ একই সঙ্গে উইন্ড টারবাইনগুলোকে ‘বড় কুৎসিত উইন্ডমিল’ আখ্যা দিয়ে বন্যপ্রাণীর জন্য এগুলো বিপজ্জনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় গত মার্চে, ফরাসি জ্বালানি কোম্পানি টোটাল এনার্জিসের সঙ্গেও চুক্তি করে ট্রাম্প প্রশাসন। ওই সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কোম্পানিটির অফশোর বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

বিনিময়ে টোটাল এনার্জিস যুক্তরাষ্ট্রে এলএনজি প্রকল্পে বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি টেক্সাসে একটি এলএনজি প্ল্যান্ট নির্মাণ এবং মেক্সিকো উপসাগরে প্রচলিত তেল উত্তোলন বা ‘আপস্ট্রিম কনভেনশনাল অয়েল’ প্রকল্প উন্নয়নে অর্থ বিনিয়োগে সম্মত হয়।

এর আগে, গত মাসে, নর্থ ক্যারোলাইনাভিত্তিক বিদ্যুৎ কোম্পানি ডিউক এনার্জির সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি করে মার্কিন প্রশাসন। ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ওই সমঝোতার বিনিময়ে ক্যারোলাইনা লং বে এলাকায় কোম্পানিটির অফশোর উইন্ড ইলেকট্রিসিটি প্রকল্পের জন্য নেওয়া ইজারা বাতিল করা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসনের এসব পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সমুদ্রভিত্তিক উইন্ড ইলেকট্রিসিটির বদলে প্রশাসন এখন তেল, গ্যাস ও এলএনজির মতো প্রচলিত জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

/এআই 

Logo