×
Logo

অর্থনীতি

জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে চীনা রোবট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা, যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি বেইজিংয়ের

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১১:১৭ পিএম

জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে চীনা রোবট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা, যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা ব্যবস্থার হুমকি বেইজিংয়ের

জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে চীনের তৈরি নতুন রোবট ও পাওয়ার ইনভার্টার আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে বেইজিং। 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ এ তথ্য জানায়। 

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে এই পদক্ষেপ চালিয়ে গেলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় 'দৃঢ় প্রতিক্রিয়া' দেখাবে তারা।

বিবৃতিতে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রকে এসব পদক্ষেপ অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। বেইজিংয়ের অভিযোগ, এই নিষেধাজ্ঞা চীনা প্রতিষ্ঠান ও পণ্যের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ এবং দমনমূলক পদক্ষেপ।

এর আগে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) নতুন কিছু চীনা রোবট ও পাওয়ার ইনভার্টারের আমদানি সীমিত করার উদ্যোগ নেয়। 

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

চীন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার অজুহাত দিয়ে নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা আরও কঠোর করছে। বেইজিংয়ের অভিযোগ, ওয়াশিংটন জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরিক্ত বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করছে, যা বাজারে হস্তক্ষেপ এবং একতরফা চাপ প্রয়োগের শামিল।

এফসিসির নিষেধাজ্ঞার আওতায় চার পায়ের রোবট বা ‘রোবট কুকুর’সহ উন্নত প্রযুক্তির কিছু রোবট রয়েছে। মার্কিন সংস্থাটির দাবি, এসব প্রযুক্তি সাইবার নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি বিদেশে উৎপাদিত এসব প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

পাওয়ার ইনভার্টার মূলত ডিসি বিদ্যুৎকে এসি বিদ্যুতে রূপান্তর করে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবস্থা, ডেটা সেন্টার ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতিতে এসব যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। ফলে এ নিষেধাজ্ঞার প্রভাব বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এটি চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক বিধিনিষেধের সর্বশেষ উদাহরণ। এর আগে, ড্রোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের আমদানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্রযুক্তি চীনে রফতানির ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এফসিসি চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কার বলেন, 'আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতেই' এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা শুধু নতুন সংস্করণের পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

প্রসঙ্গত, চীন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোবট প্রযুক্তির ব্যবহার ও উৎপাদনে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের হিউম্যানয়েড রোবটের বাজার ১৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনা নির্মাতারা দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো এবং খরচ কমানোর ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ সীমিত হলেও চীনের অভ্যন্তরীণ বাজার ও অন্যান্য রফতানি বাজারের কারণে দেশটির রোবট উন্নয়ন থেমে যাবে না।

প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ হাজার হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে চীনের ইউনিট্রি ও এজিআইবট—দুটি বড় প্রতিষ্ঠান পাঁচ হাজারের বেশি করে রোবট সরবরাহ করেছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের টেসলা ও ফিগার এআইয়ের সরবরাহ ছিল কয়েকশ' কিংবা তারও কম।

এদিকে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। মুখপাত্র মাও নিং বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দমন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, 'সুরক্ষা নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে না; বরং এটি মার্কিন প্রতিষ্ঠান ও ভোক্তাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করবে।'

বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কের নতুন উত্তেজনার কারণ হতে পারে। সেপ্টেম্বরে সম্ভাব্য ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে প্রযুক্তি ও বাণিজ্য ইস্যুতে নতুন করে বিরোধ তৈরি হচ্ছে।

/এআই 

Logo