নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন
বিশ্বকাপ আয়োজনে মার্কিন অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে ২০ বিলিয়ন ডলার: ব্যাংক অব আমেরিকা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে যোগ হয়েছে ২০ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছে ব্যাংক অব আমেরিকা (বিওএ)। প্রতিষ্ঠানটির মতে, টুর্নামেন্টকে ঘিরে আয়োজক শহরগুলোতে ব্যাপকভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে, পাশাপাশি চার বছরের বেশি সময়ের মধ্যে দেশটিতে ভোক্তা ব্যয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধিও দেখা গেছে।
ব্যাংক অব আমেরিকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্রায়ান ময়নিহান বলেন, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট মোট ৪ হাজার কোটি ডলারের (৪০ বিলিয়ন) নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্রে হয়েছে। এর সুফল শুধু স্টেডিয়ামকেন্দ্রিক নয়, বরং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।
তার ভাষ্য, 'ক্যানসাস সিটির মতো আয়োজক শহরগুলোতে, অন্যান্য শহরের তুলনায়, ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি বেশি দেখা যাচ্ছে। মানুষ শুধু স্টেডিয়ামেই নয়, বরং পানশালা, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন স্থানীয় ব্যবসায়ও বেশি অর্থ ব্যয় করছে।'
বেড়েছে ভোক্তা ব্যয়
ব্যাংক অব আমেরিকার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির ৭ কোটি গ্রাহক বর্তমানে মাসে ৪শ' বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করছেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ বেশি।
গত জুন মাসে, ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডে মোট ব্যয়, আগের বছরের তুলনায়, মোট ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। যদি জ্বালানির ব্যয় বাদ দেওয়া হয়, তাহলে প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, যা এবারের বিশ্বকাপ আয়োজনের ফলে অনেক।
একই ধরনের তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সাস ব্যুরো। সংস্থাটি জানায়, জুনে খুচরা বিক্রি ও খাদ্যসেবা খাতে বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এটি টানা পঞ্চম মাসের প্রবৃদ্ধি। এছাড়া ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বার ও রেস্তোরাঁয় ব্যয় বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এছাড়া বিমান ভ্রমণ ও অবকাশযাপন খাতে ব্যয় দুই অঙ্কের হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পোশাক খাতে ব্যয় বেড়েছে ৭ শতাংশ এবং সাধারণ পণ্যে ৫ শতাংশ।
তবে বিওএ'র প্রতিবেদনে বিদেশি দর্শকদের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
আয়োজক শহরগুলোর বড় আয়
নিউইয়র্ক/নিউ জার্সি বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, শুধু জুন মাসেই দর্শকরা সেখানে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন। এতে মোট অর্থনৈতিক প্রভাব দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এবং কর রাজস্ব এসেছে ২২৮ মিলিয়ন ডলার।
কর্মসংস্থানে প্রত্যাশার চেয়ে কম প্রভাব
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লেও কর্মসংস্থানে বিশ্বকাপের প্রভাব প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। জুনে, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ৫৭ হাজার, যা পূর্বাভাসের চেয়ে কম। একই সময়ে অবকাশ ও রিক্রিয়েশন খাতে ৬১ হাজার চাকরি কমেছে।
এর আগে, গোল্ডম্যান স্যাকস ধারণা দিয়েছিল, বিশ্বকাপের জেরে প্রায় ৪০ হাজার অতিরিক্ত চাকরি সৃষ্টি হতে পারে। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা
বিশ্বকাপের ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাবের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ইতোমধ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। বোস্টন ২০৩১ সালের ফিফা নারী বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য বিড করার আগ্রহ দেখিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভবিষ্যতে আবার ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য দেশটির বিড করার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ১১ জুন শুরু হয়ে গত রোববার ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। ফাইনালে স্পেন ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জেতে। এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হয়।
/এআই