ব্যাংক খাতে সেবা মাশুল বাড়ানোর প্রস্তাব, গ্রাহকের খরচ বৃদ্ধির শঙ্কা
আলমগীর হোসেন
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০২:১১ পিএম
আধুনিক আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থায় ব্যাংকের বিকল্প নেই। নানা প্রয়োজনেই ব্যাংকের সেবা নিতে হয়ে গ্রাহকদের। জমানো টাকার নিরাপত্তা ছাড়াও সঞ্চয় কিংবা আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য কোনও কিছুই ব্যাংক ছাড়া সম্ভব নয়।
কিছু সেবার বিনিময়ে নির্দিষ্ট ফি বা মাসুল নিয়ে থাকে ব্যাংক। আবার কিছু সেবা বিনামূল্যেও দিয়ে থাকে। হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ, ঋণ প্রসেসিং, স্বচ্ছলতা সনদ, পে অর্ডার ইস্যুর মাসুল বাড়াতে চায় ব্যাংকাররা। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, সঞ্চয়ী হিসাব থেকে মাসে তিনবারের বেশি টাকা উত্তোলন করলে মাসুল দিতে হবে গ্রাহককে।
নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে বেকায়দায় পড়বে ব্যবসায়ীরা। খরচ বাড়বে আমদানি-রফতানিতেও। বর্তমানে বিনা মাসুলে ঋণপত্র খোলা গেলেও নতুন প্রস্তাবে ২ হাজার টাকা দিতে হবে গ্রাহককে। এলসি সংশোধন ফি বেড়ে হবে দ্বিগুণ। নথি অ্যান্ডোর্সমেন্ট এবং এলসি বাতিলের আবেদনে মাসুল দিতে হবে। রফতানি বিল সংগ্রহ এবং ব্যাংক গ্যারান্টি কমিশন বাড়িয়ে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ব্যাংকাররা বলছেন, সেবার পরিসর এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় মাসুল সমন্বয় করার প্রস্তাব করেছেন তারা।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ১০ বছর আগে যে ভাড়া-ইউটিলিটির খরচ ছিল; সাথে অন্যান্য সার্ভিস চার্জ— সেগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আমাদের এটা তো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। তো কিছুটা হলেও তো আমার খরচ তুলতে হবে। সে জন্যই আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুরোধ করেছি, কিছু কিছু চার্জের বিষয়ে বিবেচনা করার জন্য।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এমনিতেই সংকটে রয়েছে ব্যাংকিং খাত। এমন সময় মাসুল বৃদ্ধিতে ব্যাংক বিমুখ হতে পারেন অনেকে। যা আর্থিক খাতকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফা কে মুজেরি বললেন, সুদ বহির্ভূত যে আয় এটা বৃদ্ধি করার উপযুক্ত সময় কি না, এটা বিবেচনা করে দেখা উচিত। ব্যাংক খাত এখন কিন্তু সংকটের মধ্যে আছে। কাজেই যখনই এই ধরনের ফিগুলো বাড়ানোর একটা প্রচেষ্টা হবে, ব্যাংক খাতের প্রতি বিমুখ হওয়ার প্রবণতা কিন্তু বৃদ্ধি পাবে। সেক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মাসুল বৃদ্ধিতে ব্যাংকের প্রতি অনীহা বাড়তে পারে গ্রাহকদের। যা আর্থিক অন্তর্ভূক্তি ও ক্যাশলেস সমাজ গঠনের পরিপন্থী। তাই ব্যাংকারদের প্রস্তাব অনুমোদনের ক্ষেত্রে সেটিও বিবেচনায় নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক চাচ্ছে একটা ক্যাশলেস ইকোনমি করতে, যেখানে মানুষের হাতে টাকা থাকবে না। টাকাগুলো আমাদের ওয়ালেটে থাকবে। সেটা এমএফএসের হোক বা ব্যাংকের হোক। এই সময় ব্যাংকগুলো বিভিন্ন ধরনের ফি বা চার্জ আরোপ করে সাধারণ মানুষকে ব্যাংকের প্রতি একটা অনিহা সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই ধরনের আবদারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকবার চিন্তা করবে।
এদিকে, সুদ বহির্ভূত আয়ের চেয়ে সুদ আয়ের দিকেই ব্যাংকগুলোর বেশি জোর দেয়া উচিত বলেও মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
/এমএন