বিদেশি ঋণ
শোধের চাপ বাড়ছেই, কমছে নতুন অর্থায়ন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬ এএম
বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ কমছেই না। গত এক বছরে আগের চেয়ে প্রায় ১১ ভাগ অর্থ বেশি শোধ করেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে প্রকল্পে অর্থছাড় কমেছে প্রায় ১৯ ভাগ। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ চার ঋণদাতা নতুন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না। তবে বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় পরিকল্পনা কমিশন।
কমিশন বলেছে, হুট করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে যাচাইবাছাই করে প্রকল্পে ঋণ চাওয়া হচ্ছে। এতে প্রবাহ কিছুটা কমলেও, সামনে তা আবার বাড়তে পারে।
এদিকে, গত ২ বছরে বিদেশি ঋণ নিয়ে অস্বস্তি বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথম চার বিলিয়ন ডলার কিস্তি পরিশোধ করেছিলো বাংলাদেশ। বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাসে তার চেয়ে বেশি শোধ করা হয়। মুদ্রার হিসাবে যার পরিমাণ প্রায় ৪১৩ কোটি ডলার। যার বড় অংশই গেছে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাপানের কাছে।
এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিবেদন বলছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি প্রতিবেশী ভারত। আগের লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় মিলছে ৭৩৬ কোটি ডলার। সেখান থেকে বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাসে মিলেছে ২৫ কোটি ডলার। নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি রাশিয়াও। অর্থ এসেছে শুধু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে।
এদিকে, আগের নেওয়া ঋণের ৪৩ কোটি ডলার ছাড় করেছে জাপান। বেইজিংভিত্তিক এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এইআইআইবিরও সাড়া নেই ।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মনজুর হোসেন বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে বিদেশি ঋণের দায় প্রায় ৮ হাজার কোটি ডলার। আবার, প্রকল্পের বাস্তবায়ন ধীর হওয়ায় প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড় কমিয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা। এর মাঝেই বাজেট সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে আইএমএফ’র সাথে। ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।
সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের নাগরিকদের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা।
/এসআর