পেনশন স্কিম চাঙ্গা করার চেষ্টা, বিধিতে আনা হচ্ছে নানা পরিবর্তন
রিমন রহমান
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
সর্বজনীন পেনশন স্কিম, ২০২৩ সালে শুরু হয় যার কার্যক্রম। শুরুর পর থেকেই ছিল নানামুখী চ্যালেঞ্জ, কঠিন ছিল মানুষের আস্থা অর্জন। পথ চলার পর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে আস্থা। তবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তৈরি হয় আস্থার সংকট। সেই অনিশ্চয়তা কেটেছে নির্বাচনের পর।
আগের সরকারের নেওয়া এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে চায় বর্তমান সরকার। আকর্ষনীয় স্কিম কাঠামো, শরিয়া ভার্সন, নির্দিষ্ট সময়ে অর্থ প্রাপ্তির নিশ্চয়তায় আনা হচ্ছে সংস্কার।
এরই মধ্যে সর্বজনীন পেনশনের চারটি স্কিমে বিনিয়োগের পরিমাণ এখন ২৬৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা এবং বিনিয়োগকারী ৩ লাখ ৭৮ হাজার জন।
সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ হয়েছে প্রগতি স্কিমে, যার পরিমাণ ১২৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এরপর সমতা স্কিমের অবস্থান, এই স্কিমে জমার পরিমাণ ৫৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। এই স্কিমে যোগ দিয়েছে সবচেয়ে বেশি ২ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ।
সুরক্ষা স্কিমে যুক্ত হয়েছেন মোট ৬৪ হাজার ৯৮৯ জন, যেখানে জমার পরিমাণ ৭৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আর প্রবাস স্কিমে জমার পরিমাণ ১০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. সুরাতুজ্জামান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারের অন্তত একজনকে এই পেনশনের আওতায় আনাই লক্ষ্যমাত্রা। এটা যদি হয় তাহলে বাংলাদেশের বৃদ্ধ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
সুদ-আসল মিলিয়ে পেনশন স্কিমে জমার তুলনায় এখন বিনিয়োগ বেশি। অর্থাৎ ইতোমধ্যে জমা করা অর্থ থেকে মুনাফা হয়েছে ৩৯ কোটি টাকার বেশি। মুনাফা ও জমার হওয়া অর্থের ২৯৪ কোটি টাকা এখন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ হয়েছে।
এছাড়া, পেনশন স্কিমের অর্থ থেকে নেওয়া যায় ঋণ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৪ কোটি টাকার বেশি ঋণ ছাড় করেছে কর্তৃপক্ষ। নতুন সময়ে নানাক্ষেত্রে আনা হচ্ছে পরিবর্তন।
এই স্কিমে আইনের যে দুর্বলতা আছে সেগুলো খতিয়ে দেখার কথা বললেন ড. সুরাতুজ্জামান। প্রয়োজনে সংশোধনের কথাও জানালেন। এছাড়া, শরীয়া ভিত্তিক স্কিম চালুর ব্যাপারে কর্মকাণ্ড চলছে বলেও জানান।
যদিও বলা হচ্ছে, আস্থা অর্জনই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই সাথে মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি দরকার।
অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি বললেন, স্বল্প আয়ের মানুষ, তারা কিন্তু বর্তমানে আর্থিকভাবে এমন চাপের মধ্যে থাকে যে ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করার খুব একটা সুযোগ বা সামর্থ্য থাকে না। কাজেই ওই সামর্থ্যটা যেহেতু থাকে না তার জন্যে যদি এই ধরনের একটা স্কিম তাদের কাছে আকর্ষণীয় মনে না হলে তারা কিন্তু আগ্রহী হবেন না।
উল্লেখ্য ট্রেজারি বন্ড ছাড়া আপাতত অন্য কোনও জায়গায় অর্থ বিনিয়োগ করবে না সর্বজনীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।
/এমএন