×
Logo

অর্থনীতি

সুইস ব্যাংকে অর্থপাচারের শঙ্কা, তথ্য আদান-প্রদানের চুক্তির তাগিদ বিশ্লেষকদের

মাসুদুজ্জামান রবিন

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

সুইস ব্যাংকে অর্থপাচারের শঙ্কা, তথ্য আদান-প্রদানের চুক্তির তাগিদ বিশ্লেষকদের

২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত সাড়ে ৪১ শতাংশ বেড়ে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো এক বছরের ব্যবধানে ৩ হাজার ৬শ' কোটি টাকা জমা করেছে। যা ২০২১ সালের পর দেশটিতে বাংলাদেশিদের জমাকৃত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ।

যদিও গ্রাহক আমানত হিসাবে কার কত অর্থ আছে, তা জানা যাচ্ছে না। তবে, দেশটির ব্যাংকগুলোতে জমা পড়া এই অর্থের বড় অংশই দেশ থেকে পাচার হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বাণিজ্যের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাঠানো হতে পারে।

অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেছেন, এলসির মাধ্যমে আন্ডার বা ওভার ইনভয়েসিংয়ে অনেক টাকা অবৈধ উপায়ে চলে যায়। সবাই মনে করে সুইজারল্যান্ড নিরাপদ।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, ঋণের অবস্থা বেসরকারি খাতে খুবই খারাপ। বলা যায়, ইতিহাসে একেবারে তলানিতে আছে। সেই জায়গায় এ ধরনের প্রবণতা বেড়ে গেলে দেশীয় অর্থনীতি কিন্তু বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গ্রাহকের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত সুইস ব্যাংকগুলো। এখন কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধে স্বচ্ছতার নীতিতে হাঁটছে। ২০১৮ সাল থেকে অটোমেটিক এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন বা স্বয়ংক্রিয় তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা চালু করেছে।

চুক্তির আওতায় ২০২৫ সালে ১০১টি দেশের প্রায় ৩৪ লাখ আর্থিক হিসাবের তথ্য শেয়ার করেছে সুইস কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু বাংলাদেশের সাথে চু্ক্তি না থাকায় অর্থের উৎস এবং গ্রাহকের তথ্য পোপন রাখা হয়েছে। অর্থপাচার রোধে দ্রুত স্বয়ংক্রিয় তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

ড. আইনুল ইসলাম বলেন, কোনো কূটনৈতিক সমস্যা বা আমাদের দক্ষতার অভাব আছে কি না; যেখানে ১০০টার মতো দেশ চুক্তিতে আছে, তারা কিন্তু বছর শেষে প্রতিবেদনে কাদের নাম আছে তা দেখতে পারে। তখন তারা এটি খতিয়ে দেখতে পারে।

সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ-সুইজারল্যান্ডের কোনো চুক্তির বিষয়ে নির্বাচিত সরকার ভেবে দেখতে পারে। এতে স্বচ্ছতা আসবে, কোথায় কী গেলো জানা যাবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশিদের মোট আমানতের সাড়ে ৯৮ শতাংশই ছিল দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের তহবিল।

/এমএন

Logo