জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে পণ্যমূল্য কমাতে শুল্ক ছাড় দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে শুল্ক ছাড় পেয়েছে ইলেকট্রনিক বাস, চার্জিং স্টেশন, মোবাইল ফোনের সিম কার্ড, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেনসহ নানা পণ্য। অন্যদিকে সৌর বিদ্যুৎ, স্মার্ট কার্ড, খেজুর, সিগারেট, কাজুবাদাম, টায়ার, টিউবের দাম কমবে বলে জানা গেছে। তবে বাইসাইকেল, রড, দেশি মদে ছাড় দেওয়া হয়নি। শুল্ক বৃদ্ধির কারণে এসব পণ্যের দাম বাড়বে।
কমতে পারে দাম:
বাজেটে ৬০টি নিত্যপণ্যে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে উৎস কর। জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র, তাই ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক এবং চার্জিং স্টেশনে বড় করছাড় দিয়েছে সরকার। কম্পিউটার, প্রিন্টার, মনিটর, ওয়াশিং মেশিন এবং ইলেকট্রিক ওভেনের দামও কমবে। মোবাইল ফোন উৎপাদনে ব্যবহৃত ২২ ধরনের কাঁচামালে কমানো হয়েছে কর।
এমনকি কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টারে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। স্বর্ণ ও স্বর্ণালঙ্কার সামগ্রীর ব্যবহারকারীরাও পাবেন সুবিধা, কমবে দাম। মোবাইল সেবা, শিল্পের কাঁচামাল এবং স্থানীয় উৎপাদিত ভোজ্যতেলে স্বস্তি দিতে চান অর্থমন্ত্রী। তুলনামূলক কম টাকায় স্থাপন করা যাবে সৌর বিদ্যুৎ। শুল্ক ছাড় পাবে কনটেন্ট ক্রিয়েশন, স্টার্টআপ ব্যবসা। স্মার্ট ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহারে কিছুটা স্বস্তি আসবে। শিশু খাদ্যের মূল্যও কমাতে শুল্ক ছাড় দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। খেজুর, কীটনাশক ও বালাইনাশকের দাম কমবে। মরদেহ সংরক্ষণে মর্চুয়ারি আমদানিতেও মিলবে শুল্ক ছাড়। টায়ার, টিউব, মোবাইল ওষুধের কাঁচামালে শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
কৃষিজাত পণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মাসিউটিক্যালস, ইলেকট্রনিক্স, স্বর্ণ ও ডায়মন্ডসহ সম্ভাবনাময় সকল ১০০ শতাংশ রফতানিমুখী খাতকে কাস্টম বন্ডের সুবিধা অথবা শুল্কমুক্তভাবে ব্যাংক গ্যারান্টির সুবিধার আওতায় পণ্য আমদানির সুযোগ প্রদান করা হয়েছে।
বাড়তে পারে দাম:
এদিকে, কাজুবাদামে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। পাঙ্গাস মাছের ফিলেট এবং নিকোটিন গ্র্যানুলসে বাড়তি ব্যয় করতে হবে। একই সঙ্গে নিকোটিন পাউচ, বাইসাইকেল, বড় ধরনের ওয়াশিং মেশিন আমদানিতে গুনতে হবে বেশি টাকা। কাগজ উৎপাদনে কাঁচামাল, ডিটারজেন্টে, কপার তার ও টিউবে ব্যয় বাড়বে। উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ খেতে চাইলে ব্যয় করতে হবে বেশি টাকা। সুগন্ধি বৃক্ষ নির্যাস, এমএস রডে শুল্ক বসিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সিগারেটের জন্য দিতে হবে বেশি টাকা। নিম্ন স্তরের ক্ষেত্রে ১০ শলাকা ৬২, মধ্য স্তর ৯২, উচ্চ স্তর ১৬০ এবং অতি উচ্চ স্তরে মূল্য ২১০ টাকা।
এমনকি দারিদ্র বিমোচন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় খাতে বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহলে প্রতি লিটারে ৫০০ টাকা হারে সুনির্দিষ্ট হারে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
/এসআইএন