×
Logo

অর্থনীতি

নতুন টেলিকম পলিসি

আইসিএক্সের কার্যক্রম বন্ধের প্রস্তাব, দেশি উদ্যোক্তাদের সুরক্ষার আশ্বাস মন্ত্রীর

মাসদুজ্জামান রবিন

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৯ পিএম

আইসিএক্সের কার্যক্রম বন্ধের প্রস্তাব, দেশি উদ্যোক্তাদের সুরক্ষার আশ্বাস মন্ত্রীর

আন্তঃকল লেনদেন ব্যবস্থায় মনিটরিংয়ে নিয়োজিত ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স)-এর কার্যক্রম বন্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন টেলিকম পলিসিতে। প্রায় দেড় যুগ আগের ব্যবস্থায় ফেরার জন্য চলছে তোরজোর। দেশিয় উদ্যোক্তাদের হটিয়ে এই কার্যক্রম বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার সমালোচনা করছেন প্রযুক্তিবিদরা। নতুন টেলিকম পলিসি রিভিউতে দেশিয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

টেলিযোগাযোগ খাতে প্রায় দেড় যুগ আগে প্রণয়ন করা হয় আইএলডিটিএস নীতিমালা। পরবর্তীতে যার আওতায় আন্তঃকল লেনদেন মনিটরিং করার জন্য আইসিএক্স লাইসেন্স প্রদান করা হয়। ফলস্বরূপ অপারেটরদের কল রেকর্ড মুছে ফেলা বা বিল ট্যাম্পারিংয়ের পথ চিরতরে বন্ধ করতে সক্ষম হয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।

তবে আইসিএক্স লাইসেন্সধারীদের কার্যক্রম বন্ধ করে আবারও পূর্বের ধারায় ফিরে যাওয়ার পায়তারা চলছে। মোবাইল অপারেটরদের স্বার্থরক্ষায় এই উদ্যোগের পথনকশা তৈরি করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার। টেলিকমিউনিকেশনস নেটওয়ার্ক অ্যান্ড লাইসেন্সিং পলিসি-২০২৫ অনুমোদনের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে পরিচালিত আইসিএক্স লাইসেন্স বাতিলের প্রস্তাব করা হয়। টেলিকমিউনিকেশনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার অপারেটরস অব বাংলাদেশের অভিমত, এ ধরনের প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে টেলিকম খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ভাটা পড়বে।

টিআইওবি’র সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদেরকে বাদ দিয়ে ইউনিফাইড লাইসেন্সের মাধ্যমে বিদেশি মোবাইল অপারেটরদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কল ডিটেইল রেকর্ড ফাঁকি দেওয়ার যে একটা প্রবনতা ছিল, সেগুলো কিন্তু ফিরে আসবে।

বিটিআরসির তথ্য বলছে, আইসিএক্সের মাধ্যমে বর্তমানে সরকার বছরে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করছে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। ২০০৮ সালের পর থেকে প্রায় ৮৫০০ কোটি টাকার বেশি সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৭ সালে আইসিএক্স ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হলে বড় অপারেটরদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রযুক্তিবিদদের। যার খেসারত দিতে হবে ছোট অপারেটর ও গ্রাহকদের।

আইএসপিএবি’র সভাপতি এম এ হাকিম বলেন, আইসিএক্সটা আমাদের ইন্টারনেট অপারেটর কানেক্টিভিটি মেনটেইন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বড় টেলিকম অপারেটর যদি অন্য অপারেটরকে কানেক্টিভিটি নিশ্চিত না করে, তাহলে অফনেট কল করা সম্ভব হবে না। এর ফলে বড় অপারেটর আরও বড় হতে থাকবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের লাইসেন্সিং পলিসিতে ইন্টারকানেকশন অবকাঠামো খাতে ২৩টি অপারেটরের ৪ হাজার কোটি টাকার দেশিয় বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিমত অ্যাসোসিয়েশন অব আইসিএক্স অপারেটরস অব বাংলাদেশের।

এআইওবি’র সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) আমিনুর রহমান বলেন, বর্তমানে ২৩টি আইসিএক্স অপারেশনাল রয়েছে। সবগুলো বাতিল হয়ে গেলে ২৩টি দেশিয় কোম্পানি বন্ধ হবে। হাজার হাজার কর্মী চাকরিচ্যুত হবে, পরিবারগুলো বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়বে এবং আরও নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হবে।

টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক অ্যান্ড লাইসেন্সিং পলিসি-২০২৫ বাস্তবায়নের আগে তা পর্যালোচনার উদ্যোগ নিচ্ছে বর্তমান সরকার। টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সুরক্ষার বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমরা এখানে কোনো লাইসেন্স বাতিল করতে বা কারও লেজ টেনে ধরতে আসিনি। আমরা শুধু দেখতে চাই, সবকিছু নিয়মমাফিক হয়েছে কি না। সেটাই আমাদের একমাত্র উদ্বেগ, অন্য কিছু নয়।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে বেরিয়ে আসে এক ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র। আইসিএক্স প্রতিষ্ঠার আগে সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয় মোবাইল অপারেটররা। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রায় হাজার কোটি টাকা জরিমানাও করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।

/এসআইএন

Logo