×
Logo

অর্থনীতি

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন

ব্যাংক লুটপাটকারীদের সুশাসন ফেরানো নিয়ে অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম

ব্যাংক লুটপাটকারীদের সুশাসন ফেরানো নিয়ে অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন

রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিগত সরকারের আমলে ব্যাংক দখলে নিয়ে চালানো হয় লুটপাট। ঋণের নামে টাকা নিয়ে পাচার করা হয় বিদেশে। অর্থ সংকটে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয় বেশ কয়েকটি ব্যাংক। গ্রাহকের আমানতের নিশ্চয়তায় ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করে অন্তবর্তী সরকার। একীভূত করা হয় সংকটে থাকা এক্সিম, এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরটি, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

এসব ব্যাংক একীভূত হয়ে রূপ নেয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে, যেখানে ৩৫ হাজার কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের মধ্যে সরকার যোগান দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। 

এদিকে, গত শুক্রবার ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ আইনে রুপান্তর করা হয়েছে জাতীয় সংসদে। যুক্ত করা হয়েছে ১৮ (ক) অনুচ্ছেদ। যেখানে ব্যাংক পরিচালনায় ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে আগের মালিকদের।

একীভূত হওয়ার সময় সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া অর্থের মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ টাকা দিয়ে বুঝে নিতে পারবেন দায়িত্ব। এছাড়া প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, নতুন মূলধন যোগান, দায়-দেনা পরিশোধ, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, লুটপাটকারীদের হাতে ব্যাংক তুলে দেয়া হবে রেজল্যুশন উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, যাদের কারণে ব্যাংকগুলো নষ্ট হয়েছে, তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে নতুন মালিক বসানো এবং নতুনভাবে এগুলোকে পুনর্গঠন করানোই তো রেজল্যুশনের উদ্দেশ্য। তো এখন যদি পূর্বের মালিকানায় নিয়ে আসা হয়, তাহলে এটাকে রেজল্যুশন কেন বলতেছেন? এই শর্তটা ঢুকিয়ে দিয়ে অধ্যাদেশটার মূল ফ্লেভারটা নষ্ট করে দিচ্ছে।

সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, অধ্যাদেশটার মূল বিষয় হচ্ছে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। এখন কোনোটাই তো নিশ্চিত করা যাবে না। কারণ, যারা মালিক থাকতে ক্ষতি করলো, তার মানে সুশাসন খারাপ ছিল। টাকা-পয়সা নিয়ে চলে গেল। দ্বিতীয়ত হলো টাকা-পয়সা বাইরে নিয়ে চলে গেলো। এরাই যদি আসে, এরা আবার সুশাসন কী উদ্ধার করবে? অঙ্গীকার যদি দেয়, পালন না করলে কী করবে? যদি এটা করতেই চায় সাড়ে সাত শতাংশ না দিয়ে সরকার-কেন্দ্রীয় ব্যাংক যা দিছে তা দিয়ে শুরু করুক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, লুটপাটকারীরা পরিচালনায় ফিরলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো ব্যাংকিং খাতে। এর ফলে সংস্কার কার্যক্রম ব্যাহত হবে। সংকটে থাকা অন্য ব্যাংকের মালিকরাও সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করবে বলেও মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বললেন, পদ্মা, বেসিক ব্যাংকের ওপরে ক্ষতিপূরণ হবে; এবি ব্যাংক, আইএফআইসি এগুলোতে ঝামেলা আছে। এগুলোকে যখন পুনর্গঠন করতে যাবে, হাতই দিতে দেবে না। সংশোধিত অধ্যাদেশের প্রভাবে ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতে সংস্কার ইতিবাচক হবে না।

ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, বিচার না করে তাদের সুবিধা দেওয়া হলো। এই সুবিধা তো প্রত্যেকটা বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক চাইবে, যারা এখন বিপদে আছে। আল্টিমেটলি সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপর মানুষের আস্থাটাই নষ্ট হয়ে গেছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সংশোধনীর ফলে বিনিয়োগের সুযোগ বেড়েছে। তবে অনিয়মে জড়িত পরিচালকরা মালিকানায় ফেরার সুযোগ পাবে না। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, পূর্বের যারা বিনিয়োগকারী ছিল অথবা বিদেশি কোনো বিনিয়োগ আসতে চাইলে সেটা আসতে পারবে। সব পরিচালকের বিরুদ্ধে তো অভিযোগ আছে, তা না। যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নাই, তারা চাইলে এই অর্থের সংস্থান করতে পারে।

/এমএন

Logo