×
Logo

অর্থনীতি

সোলার জিওইঞ্জিনিয়ারিং: ক্ষমতাধর দেশের একতরফা ব্যবহারে বাড়তে পারে ঝুঁকি

সাজনীন অন্তরা

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম

সোলার জিওইঞ্জিনিয়ারিং: ক্ষমতাধর দেশের একতরফা ব্যবহারে বাড়তে পারে ঝুঁকি

সূর্যকে আড়াল করে পৃথিবীকে শীতল রাখা! শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এমন প্রযুক্তি নিয়েই এখন আলোচনা চলছে। কৃত্রিমভাবে পৃথিবীর তাপমাত্রা কমানোর এই প্রযুক্তির নাম সোলার জিওইঞ্জিনিয়ারিং।

আকাশে বিশেষ বিমান দিয়ে সালফার এরোসল ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এই সুক্ষ্ম কণাগুলো সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে মহাকাশে ফেরত পাঠায়। ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসে।

এই প্রযুক্তির বড় সমর্থকদের একজন বিল গেটস। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা প্রকল্পেও তিনি অর্থ দিয়েছেন। তার মতে, কার্বন নিঃসরণ কমানোর গতি খুবই ধীর। শুধু গাছ লাগানো বা বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তনের এই বড় সংকট ঠেকানো সম্ভব নয়। তাই, এই প্রযুক্তিকে তিনি দেখছেন এক ধরনের জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে।

তবে কয়েকটি ক্ষমতাধর দেশের একতরফা ব্যবহারে ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে এটি। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে এভাবে হস্তক্ষেপ বড় ঝুঁকি তৈরি করছে, এমন অভিমত বিজ্ঞানিদের।

সালফার কণাগুলো ওজোন স্তরের ক্ষতি করছে। কৃত্রিমভাবে তাপমাত্রা কমানো হলে মৌসুমি বায়ুর গতিপথ বদলে যেতে পারে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় কোথাও ভয়াবহ খরা, আবার কোথাও অস্বাভাবিক বন্যা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশের মতো দেশ, যারা হিমালয়ের বরফ গলা পানি এবং বঙ্গোপসাগরের ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য ঝুঁকিটা আরও বেশি।

দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মাহবুবা নাসরিন বলেছেন, জীববৈচিত্র হ্রাস পায়। বায়ু চলাচল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব যেহেতু কমাচ্ছে না, সেজন্য মেরিন লাইফ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সূর্যের আলোটা যে সরাসরি আসত, সেটিকেও অনেক সময় প্রতিহত করছে।  

এদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় ধুঁকছে বাংলাদেশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিতে হচ্ছে। যদিও এসব অর্থে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েও আছে নানা প্রশ্ন। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতির পাশাপাশি বাড়ছে ঋণের বোঝা। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কৃত্রিম সংকট বাংলাদেশকে আরও ঝুঁকিতে ফেলবে।

এনবিআরের সদস্য ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, আমাদের প্রয়োগের জায়গাতে কিছুটা ঘাটতি আছে। জনবলের ঘাটতি আছে। কাজেই প্রতিদিন যে কাজগুলো করতে হয়, সেটা সম্ভব হচ্ছে না জনবলের ঘাটতিতে। সেক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। আমাদেরকে সবজায়গায় কাজ করার অবস্থা তৈরি করতে হবে। 

সোলার জিওইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক ভয়াবহ দিক তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবীকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নতুন কোনো বিপদ ডেকে আনা, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জাতিসংঘের মাধ্যমে এ বিষয়ে কঠোর নিয়ম-নীতি তৈরির দাবি তাদের।

/এমএন

Logo