×
Logo

অর্থনীতি

এলডিসি গ্র্যাজ্যুয়েশন: সল্পোন্নত দেশ থেকে গেলেও কঠিন হবে প্রতিযোগিতা

তৌহিদ হোসেন

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

এলডিসি গ্র্যাজ্যুয়েশন: সল্পোন্নত দেশ থেকে গেলেও কঠিন হবে প্রতিযোগিতা

জাতিসংঘের হিসাবে স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি হওয়ার সুবাদে বাংলাদেশ রফতানিতে সুবিধা পাচ্ছে ৫১ বছর ধরে। তবে ২০১৮ ও ২০২১ সালের মূল্যায়নে বাংলাদেশকে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন অর্থাৎ উন্নয়নশীল দেশ ঘোষণার সুপারিশ করে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। কথা ছিল ২০২৪ সালে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। কিন্তু কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের কারণে গ্র্যাজুয়েশনের মেয়াদ ২ বছর বাড়ানো হয়।

এছাড়া, শুরু থেকেই এলডিসি উত্তরণ পেছানোর পক্ষে শিল্প মালিকরা। তাতে সায় দিয়ে জাতিসংঘে চিঠিও দিয়েছে নতুন সরকার। যেখানে বলা হয়, গত দুই বছর রাজনৈতিক পালাবদলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেয়া যায়নি। নতুন মার্কিন ট্যারিফের কারণে বিশ্ববাজারও অস্থির। এসব কারণে দীর্ঘস্থায়ী সংকট তৈরি হলে তা সামলাতে প্রস্তুত নয় বাংলাদেশ। প্রশ্ন হচ্ছে, এসব যুক্তি কি ধোঁপে টিকবে?

ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক  ড. মোস্তফা কে মুজেরি বলেছেন, জাতিসংঘের সেই কমিটি যদি মনে করে আমাদের যে যুক্তি, সেগুলো খুব একটা সবল নয়, তখন বাংলাদেশকে উত্তরণ করতে হবে। কাজেই, এককভাবে এটা আমরা চাইলেই হবে না।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কঠিন সময় পার হচ্ছে, সেটা একটা পয়েন্ট হতে পারে এক্ষেত্রে । 

এদিকে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার হিসাবে, এলডিসি উত্তরণ হলে বাংলাদেশের রফতানি আয় কমবে বছরে ৫৩৭ কোটি ডলার, যার বড় অংশই পোশাক। আবার স্বল্পোন্নত দেশ থেকে গেলেও প্রতিযোগিতা কমার সুযোগ নেই। কেননা, বিভিন্ন দেশ কিংবা অঞ্চলের সাথে আলাদা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করে ফেলেছে ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার মতো প্রতিযোগিরা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি শুধুই ভুটানের সাথে।

ড. মোস্তফা কে. মুজেরি বলেন, যে পদক্ষেপগুলো আমরা এতদিন নিই নাই, সেই পদক্ষেপগুলো আমাদের দ্রুততার সঙ্গে শুরু করা উচিত। এখন যদি এটা জাতিসংঘের সেই কমিটি আমাদের সঙ্গে একমত হয়, যদি এটা পিছিয়ে দেয় তাহলে এলিডসি উত্তরণ পিছিয়ে যাবে।

তৌফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, সরকারের এখন যেই আর্থিক সক্ষমতা আছে, সেই আর্থিক সক্ষমতা নগদ পণ্যের জন্য তাদেরকে কমাতে হবে। এটা রেমিট্যান্সের জন্য সত্য, রফতানির জন্য-ও সত্য। সুতরাং সেই পরিবর্তনগুলোকে মেনে নেওয়ার মানসিকতা এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতির বিষয়টিও ব্যক্তি খাতে চিন্তা করতে হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে জাতিসংঘে এলডিসি উত্তরণ পেছানোর আবেদন করে সফল হয়েছে মালদ্বীপ, নেপাল, অ্যাঙ্গোলা ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জ।

/এমএন

Logo