সারাদেশে আলিম ও দাখিলে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে দারুননাজাত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আলিম ও দাখিল পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসার বিশেষ শাখা দারুননাজাত মাদরাসা কিতাব বিভাগ। এবারের আলিম পরীক্ষায় ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬ জন (৮৫.১৯%) এবং দাখিল পরীক্ষায় ৭১ জনের মধ্যে ৬১ জন (৮৫.৯২%) জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
উভয় পরীক্ষাতেই শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জিপিএ-৫ প্রাপ্তির এই হার সারাদেশে সর্বোচ্চ।
এই সাফল্যে কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাতে ও তাদের উৎসাহিত করতে সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় দারুননাজাত ল্যান্ডে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দীক।
এতে সভাপতিত্ব করেন দারুননাজাত মাদরাসা কিতাব বিভাগের উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ফরিদ বিন আব্দুল আউয়াল।
অনুষ্ঠানে বোর্ড পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফলের বাইরেও শিক্ষার্থীদের বিশেষ ইলমি অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এক হাজার হাদিস মুখস্থ করার কৃতিত্বের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে ৫ হাজার টাকার চেক এবং মুফতি আমিমুল ইহসান (রহ.) রচিত 'ফিকহুস সুনানি ওয়াল আসার' গ্রন্থটি মুখস্থ করে মঞ্চে উপস্থাপন করায় আরেকজন শিক্ষার্থীকে ১০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের আরবি ও ইংরেজি ভাষায় বক্তব্য উপস্থাপনও অনুষ্ঠানে বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আ.খ.ম. আবু বকর সিদ্দীক দ্বীনি শিক্ষার প্রসার ও দ্বীনি খেদমতের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে শিক্ষকদের নিষ্ঠা, ইখলাস ও তাকওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের উচ্চতর যোগ্যতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দারুননাজাত মাদরাসা কিতাব বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বোর্ড পরীক্ষায় ধারাবাহিক শতভাগ পাসের সাফল্য ধরে রেখেছে। বিগত বছরগুলোর ফলাফলও এ ধারাবাহিকতার সাক্ষ্য বহন করে। ২০২৪ সালের দাখিল পরীক্ষায় বিভাগের সব পরীক্ষার্থী GPA-5 অর্জন করে। আলিম পরীক্ষায় ২০২২ সালে ৩৯ জনের মধ্যে ৩৫ জন, ২০২৩ সালে ৬৭ জনের মধ্যে ৫৪ জন এবং ২০২৫ সালে ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে। চলতি বছর আলিম ও দাখিল উভয় পরীক্ষায় শতভাগ পাসের পাশাপাশি উচ্চহারে জিপিএ-৫ অর্জন সেই ধারাবাহিকতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
প্রচলিত আলিয়া শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি দরসে নিজামি ও মাদানী নেসাবের সমন্বয়ে পরিচালিত হয় বিভাগটির শিক্ষা কার্যক্রম। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কামিল পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ রয়েছে এখানে। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি মূল কিতাব পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ইলমি যোগ্যতা, নৈতিকতা ও ভাষাগত দক্ষতা গড়ে তোলার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিভাগের শিক্ষাদর্শন—'কিতাবি যোগ্যতা ও সেরা ফলাফলের অপূর্ব সমন্বয়'।
অনুষ্ঠানে আগামী বছর শিক্ষার্থীদের শতভাগ জিপিএ-৫ অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে দ্বীনি ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে জ্ঞানী, আদর্শবান ও উচ্চশিক্ষার উপযোগী প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।
/এসআর