শিল্প-অ্যাকাডেমিয়ার সেতুবন্ধনে গ্রিন ইউনিভার্সিটিতে এইচআর সামিট
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা মোকাবিলায় শিল্পখাত ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ, করপোরেট নির্বাহী ও শিক্ষাবিদগণ।
মূলত, ভবিষ্যৎ উপযোগী মানবসম্পদ, দক্ষ নেতৃত্ব এবং কর্মসংস্থানমুখী দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
শনিবার (১ আগস্ট) গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর সেন্টার ফর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট (সিসিডি) আয়োজিত 'এইচআর সামিট-২০২৬: এমপাওয়ারিং টুডেস ট্যালেন্ট টু লিড টুমোরো' শীর্ষক সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন খাতের ৩০ জন মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ, কর্পোরেট নির্বাহী, শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবী অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনে তিনটি প্যানেল আলোচনা ও দু’টি রাউন্ডটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভবিষ্যতের কর্মশক্তির চাহিদা, নেতৃত্ব বিকাশ, কর্মসংস্থান-উপযোগী দক্ষতা, ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট, প্রযুক্তিনির্ভর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে কর্মক্ষেত্রের পরিবর্তন এবং শিল্প-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
দিনব্যাপী সামিটে উপস্থিত বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সংযুক্ত করতে হলে শিল্পখাত ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিবিড় সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা জরুরি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গ্রিন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, 'এইচআর সামিট শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কর্পোরেট খাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। আমরা শুধু শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি দিতে চাই না, বরং তাদেরকে সফল পেশাজীবী ও ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।'
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. খাজা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ বলেন, 'প্রযুক্তিগত জ্ঞানের পাশাপাশি কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্বগুণই একজন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার গঠনের প্রধান ভিত্তি। এই সামিট শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে।'
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞগণ বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অন্যতম বড় জনশক্তি। তাদের সঠিক দক্ষতা, পেশাগত প্রস্তুতি এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা বিকাশের মাধ্যমেই টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।
সম্মেলনের প্যানেল ও গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী, মানবসম্পদ প্রধান ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মধ্যে ছিলেন এবিএম ইউসুফ আলী খান (আমান গ্রুপ), শেখ আমিনুর রহমান (প্রাইম ব্যাংক ফিনটেক লিমিটেড), আশফাকুর রহমান (কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড), জিয়া উদ্দিন মাহমুদ (ক্রিয়েটিভ বিজনেস গ্রুপ) প্রমুখ।
এছাড়াও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিলরুবা শারমিন খান (মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ), সুমন কান্তি সিনহা (ফকির গ্রুপ), শামীমা আক্তার খানম (নিটল নিলয় গ্রুপ), ফারজানা আলীম (এয়ার অ্যাস্ট্রা), মোহাম্মদ খালিদ (অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড), অর্পণ সাহা (হেড অব হিউম্যান রিসোর্সেস ,উপায়), এ কে এম মাহমুদুল হক (আইসিএফ–পিসিসি স্বীকৃত এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ কোচ ও মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ), নুসরাত তাবাসসুম (গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড), মো. তাহমিদুল ইসলাম (ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স), শান্তনু রায় (আস্থা ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড), মো. রেজাউল করীম (স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ) এবং জাহিদ রহমান (আকিজ ভেঞ্চার গ্রুপ)।
সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীগণ প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং কর্মক্ষেত্রে উদ্ভাবন সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী বক্তা ও আলোচকদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
/এমএইচআর