×
Logo

ক্যাম্পাস

রাকসুর ৯ মাসে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হলো?

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৫ এএম

রাকসুর ৯ মাসে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হলো?

আগ্রহ আর উৎসাহ জাগিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরই মধ্যে ১ বছর মেয়াদি এই কমিটির হাতে আছে আর ৩ মাস। তবে ৯ মাসে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আর নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া ছাত্রশিবির প্যানেলের নেতারা নিজেদের দল আর ব্যক্তিগত কাজ নিয়েই ব্যস্ত বলে দাবি করেছে অন্য ছাত্র সংগঠনগুলো। তাই ইশতেহারের কোনো প্রতিশ্রুতিই তেমন বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২৩টি পদের মধ্যে ২০টিতেই জয় পায় ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’। ঘোষিত ইশতেহারে ১২ মাসে ২৪টি সংস্কারসহ ১০৭টি কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্যানেলটি।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ইশতেহার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাকসু নেতারা সফল হতে পারেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো রয়ে গেছে আগের মতোই।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় চাপ সৃষ্টিকারী একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, বাস্তবে তার ন্যূনতম প্রতিফলনও দেখা যায়নি। ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলোও কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

তারা জানান, ভোটে জেতার লক্ষ্যেই নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি, আর অনেক প্রতিশ্রুতিই আদৌ বাস্তবসম্মত ছিল না।

শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের অভিযোগ, ব্যর্থতার এই খতিয়ানের সঙ্গে যোগ হয়েছে বছরজুড়ে ক্যাম্পাসে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। তার ওপর রাকসু নেতারা দলীয় ও ব্যক্তিগত কাজ নিয়েই ব্যস্ত—এমন অভিযোগও করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস এষা বলেন, আমাদের প্রধান যে সমস্যাগুলোর আবাসন, খাদ্য ও নিরাপত্তার সমস্যা এখনও আগের মতোই আছে।

এদিকে, রাকসু নেতারা দাবি করেছেন, তারা ইশতেহারের প্রায় ৫৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছেন এবং ৪১ শতাংশ কাজ চলমান রয়েছে।

রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, চলমান ও সম্পন্ন হওয়া কাজের একটি তালিকা করেছি। সেখানে দেখা যাচ্ছে, আমাদের ৫৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বা চলমান রয়েছে। তবে ৪১ শতাংশ কাজ এখনও শুরুই করা যায়নি।

অন্যদিকে, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, প্রশাসন সহযোগিতা করছে না, ভিসি স্যারের বক্তব্যে সেটাই উঠে এসেছে। তিনি বলেছেন, রাকসুর কর্তৃত্ব আলাদা, প্রশাসনের কর্তৃত্ব আলাদা। কিন্তু তিনি তো রাকসুর সভাপতি। তাই তার মুখে এমন বক্তব্য মানানসই নয়।

তিনি আরও বলেন, রাকসুর গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবে বলা আছে, শিক্ষার্থী-সংশ্লিষ্ট সব কাজে রাকসু বাস্তবায়ন-সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। অথচ প্রশাসনের কোনো আয়োজনে রাকসুকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে না। রাকসু নিজ উদ্যোগে যেসব কার্যক্রম করছে, সেগুলোই বাস্তবায়ন করছে।

/এসআইএন

Logo