×
Logo

ক্যাম্পাস

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাবি শিক্ষার্থীকে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি

রাজশাহী করেসপনডেন্ট

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০৩ পিএম

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাবি শিক্ষার্থীকে পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে ছুরি ও অস্ত্রের ভয় দেখানো এবং নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর মহসিন আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীও একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক কর্মী বলা হলেও রাবি ছাত্রদলের দায়িত্বরত নেতারা বলছেন, তিনি ছাত্রদলের কোন কর্মী নয়। এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় গত রোববার রাতে সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে চূড়ান্তভাবে দোষী বা নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। একই সঙ্গে তাদের জানা অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী নন বা নিয়মিত কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেন না। তবে অভিযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করতে পারে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত মহসিন পূর্বে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে সে ছাত্রদলের সান্নিধ্যে আসার চেষ্টা চালায়।

প্রক্টর বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ জুলাই থেকে অভিযুক্ত মহসিন আলম ওই ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত, হয়রানি ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরও তিনি বিরত না থেকে উল্টো চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গতকাল রোববার বিকেলে মহসিন জোরপূর্বক ভুক্তভোগী ছাত্রীকে পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে যান এবং আবারও প্রেমের প্রস্তাব দেন। ভুক্তভোগী আবারও প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে অভিযুক্ত মহসিন একটি ছুরি বের করে ভয়ভীতি দেখান এবং নিজের কাছে পিস্তল রয়েছে বলেও হুমকি দেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি— ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে অভিযুক্ত তাকে তার মেসের দিকে নিয়ে যেতে সম্মত হন।পরে রাস্তায় যাওয়ার সময় আবারও তাকে পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে যান এবং নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন।দীর্ঘ সময় কান্নাকাটির পর তাকে মেসে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্ত ছাত্র মোবাইল ফোনে কল করে আত্মহত্যার কথা বলেন। পাশাপাশি অভিযুক্তের এক সহযোগী ওই ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহসিন আলমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনে সাড়া দেননি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ভুক্তভুগী নারী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তা দেখছি। আজ সোমবার দুপুরে অভিযুক্তকে ডাকা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিবে।

/এমএইচআর

Logo